...
...
Next Story

Irregularities in WB Disability Allowance: প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পেও দুর্নীতির অভিযোগ, দ্রুত তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের

এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

Published on: Sep 7, 2026, 08:10:41 IST
Advertisement

Irregularities in WB Disability Allowance: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক পুরনো দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এবার অভিযোগ উঠল প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্প নিয়েও। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আশিকুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং নিজের প্রভাব খাটিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভাতা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।

অভিযোগ উঠল প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্প নিয়ে
অভিযোগ উঠল প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্প নিয়ে

এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, মামলায় জমা দেওয়া নথি এবং বক্তব্য খতিয়ে দেখে আবেদনকারীর অভিযোগগুলি এই পর্যায়ে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে, তাই সেই তদন্তের অগ্রগতি দেখার পক্ষেই মত দিয়েছে আদালত।

প্রতিবন্ধী বা বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ভাতা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যায়। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য একাধিক শর্ত রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর অন্তত ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক অক্ষমতা থাকতে হবে এবং তার প্রমাণ হিসেবে চিকিৎসকের দেওয়া শংসাপত্র প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্তত ১০ বছর পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হয়। পরিবারের বার্ষিক মোট আয় এক লক্ষ টাকার বেশি হলে এই সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। এছাড়াও কেউ অন্য কোনও সরকারি সুবিধা পেলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা থাকতে পারে।

মামলাকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজীর অভিযোগ, প্রকৃত প্রতিবন্ধী এবং যোগ্য মানুষদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ বেআইনিভাবে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে, যাঁদের এই ভাতা পাওয়ার আইনি অধিকার নেই। তাঁর দাবি, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পঞ্চায়েত সমিতির ওই সদস্য অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। মামলায় এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। কয়েকজন অভিযুক্তকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং সাক্ষীদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। সামশেরগঞ্জ থানায় গত ৫ জুলাই এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্টে। সামশেরগঞ্জ থানার আইসির রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তের সময় খতিয়ে দেখা ১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টিকেই প্রাথমিকভাবে ভুয়ো বলে মনে হয়েছে।

এই তথ্য সামনে আসার পরই আদালত পুলিশকে তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, তদন্তে ওই শংসাপত্রগুলি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কারা সেগুলি ব্যবহার করেছে এবং প্রকল্পের টাকা কারা পেয়েছেন—তার উত্তর কতটা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। পাশাপাশি অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe