কোচবিহারের দিনহাটায় ভারতীয় সিমকার্ড পাকিস্তানে পাচারের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আন্তর্জাতিক গুপ্তচর চক্রের যোগ। গোয়েন্দাদের তদন্তে বাংলাদেশের দুই আইএসআই হ্যান্ডলারের নাম উঠে এসেছে। তারা হল আকবর হোসেন ওরফে সম্রাট এবং ওমর। তদন্তকারীদের দাবি, দু’জনই ঢাকার পাকিস্তানি দূতাবাসের হয়ে কাজ করে। তাদের নির্দেশেই গত কয়েক মাসে একাধিক ভারতীয় সিমকার্ড নেপালের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি ভারতীয় সিমকার্ড পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ তিন সন্দেহভাজন আইএসআই চরকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, নুর নাসিরুদ্দিন আলি এবং রশিদুল হক ওরফে রশিদুল ইসলাম। তাদের জেরা এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের রংপুরের বাসিন্দা আকবর এবং ঢাকায় থাকা ওমরের নাম সামনে আসে।
গোয়েন্দাদের দাবি, ঢাকার পাক দূতাবাসের কয়েকজন আধিকারিকের নির্দেশে আকবর ও ওমর এই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। তদন্তে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২টি ভারতীয় সিমকার্ড পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সিমকার্ডগুলি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাঠানো হয়নি। নেপালের দুই আইএসআই লিঙ্কম্যানের মাধ্যমে সেগুলি ইসলামাবাদে পৌঁছে দেওয়া হত বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
শুধু সিমকার্ড পাচার নয়, জাল নোটের কারবারেও আকবর ও ওমরের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দাদের দাবি, তাদের মদতেই ২০২৩ সাল থেকে কোচবিহারের নাজিরহাট এবং নয়ারহাট সীমান্ত এলাকায় জাল নোট পাচার চলেছে। প্রায় দু’বছরে এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ টাকার জাল নোট পাচার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
এই সূত্রেই তদন্তকারীদের নজরে এসেছে মিঠু বর্মনের নাম। তাকে জাল নোটের সরবরাহকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আকবর ও ওমরের সঙ্গে মিঠুর সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলেও গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য এসেছে। পাশাপাশি প্রদীপ্ত বসু নামে আরও এক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এই সূত্রেই তদন্তকারীদের নজরে এসেছে মিঠু বর্মনের নাম। তাকে জাল নোটের সরবরাহকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আকবর ও ওমরের সঙ্গে মিঠুর সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলেও গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য এসেছে। পাশাপাশি প্রদীপ্ত বসু নামে আরও এক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তদন্তকারীদের দাবি, জাল নোট ও ভারতীয় সিমকার্ড পাচারের জন্য আকবর রশিদুলের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। পরে ওই টাকা প্রদীপ্ত বসুর মাধ্যমে নাসিরুদ্দিনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অর্থের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের মতে, সীমান্তের ওপারে সক্রিয় আইএসআই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ ও নেপালকে ব্যবহার করে ভারতের সিমকার্ড এবং জাল নোটের কারবার চালাচ্ছে, দিনহাটার এই ঘটনা তারই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। এখন আকবর ও ওমরের সঙ্গে পাক দূতাবাসের যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।