স্কুলে যাওয়ার পথে আচমকা দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল এক প্রধানশিক্ষকের। শনিবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের শ্রীকৃষ্ণপুর সংলগ্ন মাদারিপুর এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পেট্রোল পাম্পের কাছে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই শিক্ষককে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন নজরুল। মাদারিপুর এলাকার একটি পেট্রল পাম্পের কাছে পৌঁছতেই আচমকা বাইকে চেপে আসা এক দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় ওই বাইক আরোহী। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখেন, রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন শিক্ষক।
গুলিটি তাঁর পেটের ডান দিকে লাগে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত তাঁকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্মরত চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়িতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে নজরুল ইসলামকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং পরিচিতদের মধ্যে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইসলামপুর থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যে বাইকে করে দুষ্কৃতী এসেছিল, সেটি এবং হামলাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি সংক্রান্ত বিবাদ, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
{{/usCountry}}খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইসলামপুর থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যে বাইকে করে দুষ্কৃতী এসেছিল, সেটি এবং হামলাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি সংক্রান্ত বিবাদ, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
{{/usCountry}}মৃত শিক্ষকের ভাইপো মহম্মদ বেলাল বলেন, নজরুল ইসলাম কোনও রাজনীতি করতেন না। কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতাও ছিল না বলে পরিবারের দাবি। ফলে স্কুলের এক প্রধানশিক্ষককে এভাবে কেন গুলি করে খুন করা হল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের কাছে এই হামলার কোনও পূর্বাভাস ছিল না।
ইসলামপুর থানার আইসি শুভম কর্মকার জানিয়েছেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীর পরিচয় এবং ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, প্রকাশ্য রাস্তায় স্কুলে যাওয়ার সময় এক শিক্ষককে গুলি করে খুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর মাদারিপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
দিনের শুরুতেই এমন নৃশংস ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, জনবহুল এলাকায় কীভাবে এক ব্যক্তি বাইকে এসে গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেল? দুষ্কৃতী আগে থেকেই নজরুলকে অনুসরণ করছিল কি না, হামলার জন্য ওই জায়গাটিই কেন বেছে নেওয়া হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখন দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করাই তদন্তকারীদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।