CM Suvendu Adhikari: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (SIR) কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। পাল্টা চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দু'জনের মধ্যে কথা হয়েছে ফোনেও। পাশাপাশি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঠিক এমন এক আবহে রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতেই হয়েছে, কারও একার সিদ্ধান্তে নয়। তাঁদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ যে নেই, তা শনিবার তিন জনের সম্মিলিত বৈঠকের ছবি থেকেই স্পট। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের ‘বন্ধুত্ব’কেও কটাক্ষ করলেন।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে দাবি করা হয়, এসআইআর চলাকালীন দেশের তিন নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গেই দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী একমত হচ্ছেন না। গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার দুই কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তে লিখিত ভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয় ওই রিপোর্টে। কমিশনের অন্দরের এই ‘বিরোধ’ প্রকাশ্যে আসার পর গোটা দেশ তোলপাড়। বিরোধীরা একজোট হয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবারই তিন কমিশনার বৈঠকে বসেন। তাঁদের একত্রে বসার ছবি প্রকাশ করে নির্বাচন সদন। সেই ছবি নিয়ে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় যাঁদের হজম হচ্ছে না, তাঁরা একটি প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে শোরগোল করার চেষ্টা করছেন।’
নির্বাচন কমিশনারদের ছবি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই ছবিই বলে দিয়েছে, এসআইআরের সিদ্ধান্ত কারও একার ছিল না। তিন নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখান থেকেই তা প্রমাণিত।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা নির্বাচনে বিপুল ভাবে পরাজিত। নাম এবং নিশান মুছে গিয়েছে। একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে তারাই জনগণের রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সিপিএমও তাদের সঙ্গে জুটেছে। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে মমতার দল তৈরি হয়েছিল, এখন তিনি সেই সিপিএমের সঙ্গেই হাত মেলাচ্ছেন।’ এ রাজ্যে এসআইআর-এ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ে শুনানি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনি গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। আপনার কথা শুনে বিচারকদের দায়িত্ব দিয়েছে আদালত। তার পরেও আপনারা হেরেছেন। এখন বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে নির্বাচিত সরকারকে আক্রমণ করছেন, কমিশনকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার করছেন। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে আজ়াদি স্লোগান দিচ্ছেন। জনগণের রায় আপনারা মানতে পারছেন না। তাই আপনারা আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত।’
{{/usCountry}}নির্বাচন কমিশনারদের ছবি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই ছবিই বলে দিয়েছে, এসআইআরের সিদ্ধান্ত কারও একার ছিল না। তিন নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখান থেকেই তা প্রমাণিত।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা নির্বাচনে বিপুল ভাবে পরাজিত। নাম এবং নিশান মুছে গিয়েছে। একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে তারাই জনগণের রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সিপিএমও তাদের সঙ্গে জুটেছে। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে মমতার দল তৈরি হয়েছিল, এখন তিনি সেই সিপিএমের সঙ্গেই হাত মেলাচ্ছেন।’ এ রাজ্যে এসআইআর-এ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ে শুনানি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনি গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। আপনার কথা শুনে বিচারকদের দায়িত্ব দিয়েছে আদালত। তার পরেও আপনারা হেরেছেন। এখন বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে নির্বাচিত সরকারকে আক্রমণ করছেন, কমিশনকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার করছেন। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে আজ়াদি স্লোগান দিচ্ছেন। জনগণের রায় আপনারা মানতে পারছেন না। তাই আপনারা আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত।’
{{/usCountry}}শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, '৬০ লক্ষ যৌক্তিক অসঙ্গতির মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাতিল করেছেন বিচারকেরা।' তাঁর বক্তব্য, 'তৃণমূলের করা মামলার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হাই কোর্টের মাধ্যমে জেলা বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছিল। ইআরও-র ভূমিকাকে কার্যত অস্বীকার করে বিচারব্যবস্থা নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' সম্প্রতি বিরোধীদের একজোট হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতিকেও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘কংগ্রেস থেকে ঘাড়ধাক্কা খেয়েছিলেন মমতা। অটলজি (অটল বিহারী বাজপেয়ী) ১৯৯৮ সালে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাই হয় ৩৪ বছরের সিপিএমের অত্যাচার, অবিচারের অবসানের জন্য। সেই সিপিএম এখন ওদের বন্ধু হয়েছে।’ শনিবার শ্রীরামপুরে সভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সেখানে ১৫০ জন লোক হয়েছে। পুলিশ ছিল ১৭০ জন। মিডিয়া, পুলিশ মিলিয়ে মেরেকেটে ৫০০ জন লোক হয়েছিল সেখানে। ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল যে দল, ৬ বারের সাংসদ ছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সভার এই হাল বুঝিয়ে দিচ্ছে মমতার দলের জনভিত্তি কোথায়? মমতা এআইটিসি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাম বদলেছে, প্রতীক বদলেছে এবং দলও একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।