যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আছড়ে পড়ল হিজাব বিতর্ক। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের শেষলগ্নে একটি পোস্টার দেখা যায়। তাতে লেখা ছিল, 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামফোবিয়ার কোনও জায়গা নেই।' সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের স্নাতক ডিগ্রির সম্মান গ্রহণের সময় ইংরেজির স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের দুই পড়ুয়া প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অভিযোগ, গত সোমবর পরীক্ষার সময় স্রেফ সন্দেহের বশে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষের দুই ছাত্রীর হিজাব খুলতে বলেন এক অধ্যাপক। যদিও অধ্যাপকরা ইসলামফোবিয়ার যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার সময় জালিয়াতি করতে গিয়ে কয়েকজন পড়ুয়া ধরা পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছিল। কাউকে সন্দেহ হলে ফের পরীক্ষা করা হচ্ছিল। তাছাড়া হিজাব পরে আরও কয়েকজন পরীক্ষা দেন। তাঁদের কোনও সমস্যা হয়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। যোগ করে দেওয়া হচ্ছে ইসলামফোবিয়ার বিষয়টি।
পরীক্ষায় হেডফোন ব্যবহার! ধরা হয় কয়েকজনকে

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক অধ্যাপক বলেছেন যে ‘হেডফোন ব্যবহার করার জন্য গত সপ্তাহে কমপক্ষে চারজন পরীক্ষার্থীকে ধরা হয়েছে। ওরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নয়। সেদিনই পরীক্ষার সময় হেডফোন ব্যবহার করায় হুডি পরে থাকা এক পড়ুয়াকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন রিসার্চ স্কলার। আমরা সতর্ক করা হয়েছিল। আর যে পড়ুয়াদের দেখে সন্দেহ হচ্ছিল, তাদের ফের পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’
ইসলামফোবিয়ার কথা বলে শিক্ষকদের টার্গেট?
সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এটা পরিষ্কার করে দেওয়া উচিত যে আরও একজন পড়ুয়া হিজাব পরেছিল। তার পরীক্ষা করা হয়নি। হিজাব পরে বিশেষভাবে এক সক্ষম প্রার্থীও লাইব্রেরিতে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাকে পরীক্ষা করা হয়নি।’ অপর এক অধ্যাপক আবার হতাশার সুরে জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের এমন কাজে তাঁরা যারপরনাই বিরক্ত হয়েছেন। যদি শিক্ষকদেরই এরকমভাবে নিশানা করা হয়, তাহলে তাঁদের পক্ষে নিজেদের কাজ করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। তাঁর কোনও সহকর্মীই 'ইসলামফোবিয়া ভোগেন না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওই অধ্যাপক।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
আর বিষয়টি নিয়ে আপাতত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে আপাতত বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে উপাচার্যের কাছে সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে পড়ুয়ারা চিঠিও পাঠিয়েছেন।
{{/usCountry}}আর বিষয়টি নিয়ে আপাতত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে আপাতত বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে উপাচার্যের কাছে সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে পড়ুয়ারা চিঠিও পাঠিয়েছেন।
{{/usCountry}}