পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহর থেকে জঙ্গি-যোগের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি কাশ্মীরের বাসিন্দা এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। তবে এই নামটি আসল নাকি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ ভাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই হামিদ। এই সাজ্জাদ পুলওয়ামা হামলায় জড়িত ছিল।

এসটিএফ সূত্রে খবর, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’-এর একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন হামিদ। গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমানে আসার আগে হামিদ কলকাতার নিউটাউনের একটি আবাসনে ভাড়া থাকতেন। ওই আবাসনের অবস্থান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ফ্ল্যাটের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফের দাবি, ধৃত যুবক মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখতেন এবং তিনি যে রাস্তাগুলি ব্যবহার করতেন, সেগুলির একাধিকবার রেকি বা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের লোকেশন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, হামিদের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করে জইশ-ই-মহম্মদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। টাওয়ার লোকেশন এবং কল ডিটেলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, তিনি পশ্চিমবঙ্গে একা কাজ করছিলেন, নাকি কোনও বড় জঙ্গি চক্রের অংশ ছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, হামিদের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করে জইশ-ই-মহম্মদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। টাওয়ার লোকেশন এবং কল ডিটেলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, তিনি পশ্চিমবঙ্গে একা কাজ করছিলেন, নাকি কোনও বড় জঙ্গি চক্রের অংশ ছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এদিকে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ধৃতের নাগরিকত্ব নিয়ে জল্পনা। কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামিদ আদতে পাকিস্তানের নাগরিক হতে পারেন। যদিও এই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভিসা সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য পরিচয় যাচাই করে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এসটিএফ ইতিমধ্যেই বর্ধমান এবং নিউটাউনের যে ফ্ল্যাটগুলিতে হামিদ ভাড়া থাকতেন, সেগুলির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাঁরা কীভাবে ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাই করেছিলেন, পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং হামিদের দৈনন্দিন চলাফেরা সম্পর্কে তাঁদের কোনও সন্দেহ হয়েছিল কি না, সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, এই গ্রেফতারি শুধুমাত্র একজন সন্দেহভাজনকে আটক করার ঘটনা নয়; এর মাধ্যমে বড় কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা ষড়যন্ত্রের সূত্র মিলতে পারে। সেই কারণে গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এসটিএফ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও।