ঝাড়গ্রামের পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে ম্যাঙ্গানিজের সম্ভাব্য মজুত। দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ে আলোচনা চলছে। এবার সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য ও কেন্দ্র। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঝাড়গ্রামের একাধিক এলাকায় শুরু হবে প্রাথমিক ক্ষেত্রসমীক্ষা। এই সমীক্ষা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সিমুলপাল, লাবণী, বাঁশপাহাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য এলাকায় সমীক্ষা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ দপ্তরের অনুমোদনেই এই কাজ শুরু হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এমওআইএল লিমিটেডের নেতৃত্বে হবে এই সমীক্ষা। এমওআইএল দেশের অন্যতম বড় ম্যাঙ্গানিজ আকরিক উৎপাদনকারী সংস্থা। তাদের সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা। সমীক্ষায় অংশ নেবে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা জিএসআই। থাকবে ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইনস বা আইবিএম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ দপ্তরও এই কাজে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ডব্লিউএমডিটিসিএল-ও সমীক্ষায় অংশ নেবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই সমীক্ষার লক্ষ্য হল এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন বোঝা। কোথায় কী ধরনের খনিজ রয়েছে, তার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে মাটির নীচে ম্যাঙ্গানিজের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য মজুত কতটা, তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই সমীক্ষা এখনও কোনও খনি আবিষ্কারের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এটি মূলত একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান। সমীক্ষায় ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে পরে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হতে পারে। তখন খনিজের পরিমাণ, গুণমান এবং উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা হবে।
ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা শোনা যায়। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্ভাবনা নিয়ে কাজ খুব বেশি দূর এগোয়নি। এবার নতুন করে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ জানিয়েছেন, জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলিতে খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকার এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নিয়ে যৌথ সমীক্ষার উদ্যোগ তারই প্রমাণ।
{{/usCountry}}ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা শোনা যায়। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্ভাবনা নিয়ে কাজ খুব বেশি দূর এগোয়নি। এবার নতুন করে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ জানিয়েছেন, জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলিতে খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকার এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নিয়ে যৌথ সমীক্ষার উদ্যোগ তারই প্রমাণ।
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, যদি ঝাড়গ্রামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজের মজুত পাওয়া যায়, তাহলে জেলার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ম্যাঙ্গানিজ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। ইস্পাত তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রেও ম্যাঙ্গানিজের প্রয়োজন হয়। তাই ঝাড়গ্রামে যদি বড় মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট হতে পারে।
তবে খনি ঘিরে সম্ভাবনার পাশাপাশি পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঝাড়গ্রামের বহু এলাকা জঙ্গল ও পাহাড়ে ঘেরা। তাই ভবিষ্যতে খনিজ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য, স্থানীয় মানুষের জীবন এবং বনাঞ্চলের উপর প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে। এখন সবার নজর ১৫ সেপ্টেম্বরের দিকে। ওই দিন থেকেই শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত সমীক্ষা। মাটির নীচে সত্যিই কতটা ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে, সেটাই জানতে অপেক্ষা। সমীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে ঝাড়গ্রামের জন্য খুলে যেতে পারে নতুন সম্ভাবনার দরজা। শিল্প, রাজস্ব এবং কর্মসংস্থান—তিন ক্ষেত্রেই বদল আসতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা বড়, তার প্রথম উত্তর মিলবে এই সমীক্ষাতেই।