ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝার পরাজয়কে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়া ব্লকের অন্দরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের একাংশের তরফে অভিযোগ ওঠে যে, জোটসঙ্গী সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের বিধায়কদের ভোটদানে গরমিল ছিল এবং তার ফলেই প্রণব ঝা প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন।

দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে একটি চিঠি লিখে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের দুই বিধায়কই দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন এবং কংগ্রেস প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য তাঁদের দায়ী করা একটি 'মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক প্রচার'। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক দলগুলির মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার প্রতি তাঁদের দল সম্পূর্ণভাবে অনুগত ছিল। সেই অনুযায়ী বিধায়কদের ভোটদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নির্দেশই পালন করা হয়েছে। ফলে ভোটের ফলাফল নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে তা অন্যত্র খোঁজা উচিত, জোটসঙ্গীদের উপর দায় চাপিয়ে নয়।
সিপিআই(এমএল) নেতৃত্বের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক মহল ইচ্ছাকৃতভাবে জোটের শরিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁদের মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর আত্মসমালোচনার পরিবর্তে জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলে তা শুধু ভুল বার্তাই দেবে না, বরং বিরোধী ঐক্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চিঠিতে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ ইন্ডিয়া ব্লকের সংহতিকে দুর্বল করতে পারে। বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলির ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিস্থিতিতে শরিক দলগুলিকে সন্দেহের চোখে দেখা বা পরাজয়ের দায় চাপানোর প্রবণতা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
{{/usCountry}}চিঠিতে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ ইন্ডিয়া ব্লকের সংহতিকে দুর্বল করতে পারে। বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলির ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিস্থিতিতে শরিক দলগুলিকে সন্দেহের চোখে দেখা বা পরাজয়ের দায় চাপানোর প্রবণতা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
{{/usCountry}}রাজনৈতিক মহলের মতে, ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনের ফলাফল শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়েরও পরীক্ষা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, জোটের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এই চিঠি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি দ্রুত মিটিয়ে ফেলা না গেলে ঝাড়খণ্ডের ঘটনা ইন্ডিয়া ব্লকের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রণব ঝার পরাজয়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কংগ্রেস ও সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সম্পর্কের পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে দুই দল কীভাবে এই অস্বস্তি কাটিয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।