পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্র কি এবার বদলাতে চলেছে? রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন শিল্পপতি তথা JSW গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল। আর এই বৈঠক ঘিরেই নতুন করে আশার আলো দেখছে রাজ্যের শিল্পমহল। সূত্রের খবর, বিদ্যুৎ, ইস্পাত, সিমেন্ট, বন্দর এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো-সহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠীর। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সজ্জন জিন্দালও আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন।

বুধবার ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় নবান্নে এই বৈঠক হয়। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল জিন্দালের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক। বৈঠকে রাজ্যে নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং আগের প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো, বন্দর, সিমেন্ট এবং ইস্পাত শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে কোন খাতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে এবং কবে থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা এখনও হয়নি।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুরের সালবনিতে জিন্দাল গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ভূমিপুজো হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সালবনিতে JSW গোষ্ঠীর ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প গড়ে উঠছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ আশপাশের এলাকায় শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আনুষঙ্গিক শিল্প এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু শিল্প বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বাংলায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের শর্ত মেনেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে সংস্থাটি। সেখানে হার্ট ইউনিট এবং শিশুদের জন্য বিশেষ নিউনেটাল কেয়ার ইউনিট বা SNCU-র উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের পুরনো মন্দিরগুলির সংস্কারেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
{{/usCountry}}শুধু শিল্প বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বাংলায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের শর্ত মেনেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে সংস্থাটি। সেখানে হার্ট ইউনিট এবং শিশুদের জন্য বিশেষ নিউনেটাল কেয়ার ইউনিট বা SNCU-র উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের পুরনো মন্দিরগুলির সংস্কারেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, বাংলায় শিল্পায়নের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে বাম আমলেও সালবনিতে বড় শিল্প প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছিল JSW গোষ্ঠী। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পায়ন উদ্যোগের অন্যতম বড় অংশ ছিল এই প্রকল্প। যদিও নানা কারণে সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ফের সালবনিতে বিনিয়োগ শুরু করে জিন্দাল গোষ্ঠী।
এবার শুভেন্দু সরকারের সঙ্গে জিন্দালের বৈঠককে তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে শিল্পমহল। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার আগে এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী সুবিধা ঘোষণা করা হয়, সেটাও এখন দেখার।
সব মিলিয়ে, প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সালবনির বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে বাংলায় শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করল JSW গোষ্ঠী। তবে পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রকল্প ঘোষণা, অনুমোদন এবং কাজ শুরুর উপর।