...
...
Next Story

Kakoli Ghosh Dastidar: কল্যাণীতে CM শুভেন্দুর বৈঠকে TMCর ‘বিদ্রোহী’ কাকলি! দলবদলের জল্পনা উস্কে হাজির ৩ বিধায়কও

Kakoli Ghosh Dastidar: সম্প্রতি দলীয় পদ খোয়ানোর পর থেকেই শাসকদলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। এই আবহে বিজেপি মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে তাঁর এই উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Published on: May 26, 2026, 19:12:30 IST
Advertisement

Kakoli Ghosh Dastidar: রাজ্য রাজনীতিতে বেনজির ছবি। কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে সশরীরে হাজির হলেন বারাসতের ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কয়েকদিন আগেই বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়েন তিনি। শুধু তাই নয়, মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের পদ যেতেই সমাজমাধ্যমে কার্যত বোমা ফাটান। তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে দলবদলের চর্চাও। তার মধ্যেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। শুধু কাকলিদেবীই নন, তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে স্বরূপনগর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক বিনা মন্ডল, দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ এবং হাড়োয়ার বিধায়ক মোহাম্মদ আব্দুল মতিনকে।

কল্যাণীতে CM শুভেন্দুর বৈঠকে TMCর ‘বিদ্রোহী’ কাকলি ঘোষ দস্তিদার! (Sansad TV )
কল্যাণীতে CM শুভেন্দুর বৈঠকে TMCর ‘বিদ্রোহী’ কাকলি ঘোষ দস্তিদার! (Sansad TV )

সম্প্রতি দলীয় পদ খোয়ানোর পর থেকেই শাসকদলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। এই আবহে বিজেপি মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে তাঁর এই উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি এই তিন জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং এলাকার সমস্যা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার কল্যাণীতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই বৈঠকেই আমন্ত্রণ জানানো হয় বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের। রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নেন, এবার থেকে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হবে বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বয়কটের রাজনীতি'র উলটো পথে হেঁটেই এহেন সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শুরুর আগে সেখানে উপস্থিত হন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রীকে সেখানে গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। কিন্তু সব আলো কেড়ে নেয় বৈঠক শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তটি, যখন সেখানে আচমকাই প্রবেশ করেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক।

ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের বহু যুগের সৈনিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নানা সময়ে পথে নেমে আন্দোলনে তাঁকে দেখা গিয়েছে। বারাসতের তিন তিনবার সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এবং মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদও দীর্ঘদিন সামলেছেন। লোকসভাতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তা হল, মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে দলের বড় বিপর্যয়ের পর ওই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বদলে সেই পদে ফিরিয়ে আনা হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ১৪ তারিখ কালীঘাটে সাংসদদের নিয়ে দলীয় বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পরদিনই সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে নিজের অভিমান উগরে দেন মমতার এই দীর্ঘদিনের সৈনিক। লিখেছিলেন, দলের প্রতি চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার মিলল। এরপর থেকেই একের পর এক ‘বিদ্রোহী’ পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন তিনি। বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়েন। সুব্রত বক্সীকে চিঠি লিখে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক নিয়ে নাম না করে কটাক্ষ করেন, এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি নিশানা করতে ছাড়েননি। এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর এবং তৃণমূল বিধায়কদের পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe