Kakoli Ghosh Dastidar Cryptic Post: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের আঁচ এবার এসে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। দলের খারাপ ফলের জেরে বারাসতের চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘ডানা ছাঁটা’ হতেই শুরু হলো নজিরবিহীন ‘মুষলপর্ব।’ লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের এই সঙ্গী।

চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর সংসদীয় দলে রদবদল ঘটিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান সাংসদ এবং দলের বহু পুরনো নেতা আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার মতো দুর্গে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। ৩৩টির মধ্যে মাত্র ৯টি আসন পাওয়ায় সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অধিকাংশ বিধানসভায় বিজেপি জয়ী হওয়ায় কোপ পড়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ওপর। বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কাকলিকে সরিয়ে ফের পুরনো মুখ শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চিফ হুইপ করা হচ্ছে। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে নিজের অভিমান প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সৈনিক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার?
শুক্রবার সকালে ফেসবুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন, '৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।’ তাঁর এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট পদের নাম না নিলেও, তাঁর এই মন্তব্য যে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই, তা একপ্রকার স্পষ্ট। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি কাকলি। এর আগে তাঁর ছেলেও দলের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন, এবার নিজেই আসরে নামলেন বারাসতের সাংসদ।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭৬ সালে ছাত্র রাজনীতির সময়ে তাঁদের পরিচয়। সে সময় মমতা ছিলেন যোগমায়া দেবী কলেজের ছাত্রী এবং ছাত্র পরিষদের নেত্রী। অন্যদিকে, কাকলি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৮৪ সালে মমতার রাজনৈতিক উত্থানের সময় থেকেও তাঁর পাশে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চার দশকের সেই সম্পর্কের উল্লেখই তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা করা এবং কাকলিকে দায়িত্ব দেওয়া ছিল দলের একটি বিশেষ কৌশল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। বর্ষীয়ান নেত্রীর এই ‘বিদ্রোহ’ আগামী দিনে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭৬ সালে ছাত্র রাজনীতির সময়ে তাঁদের পরিচয়। সে সময় মমতা ছিলেন যোগমায়া দেবী কলেজের ছাত্রী এবং ছাত্র পরিষদের নেত্রী। অন্যদিকে, কাকলি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৮৪ সালে মমতার রাজনৈতিক উত্থানের সময় থেকেও তাঁর পাশে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চার দশকের সেই সম্পর্কের উল্লেখই তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা করা এবং কাকলিকে দায়িত্ব দেওয়া ছিল দলের একটি বিশেষ কৌশল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। বর্ষীয়ান নেত্রীর এই ‘বিদ্রোহ’ আগামী দিনে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}