Kalyan Banerjee on FIRs Against TMC: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত দু’মাসে একের পর এক তৃণমূল নেতা, বিধায়ক ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন বহু নেতা। এই আবহেই কলকাতা হাই কোর্টে শাসকদলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত ৪ মে থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ হাজার এফআইআর দায়ের হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা না দিলে এফআইআর করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে শ্রীরামপুর থানার অধীন শ্যাওড়াফুলি ও রিষড়া এলাকার মোট পাঁচ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেই মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের হলেও অভিযুক্তদের কাছে মামলার বিস্তারিত তথ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘গত ৪ মে থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪ হাজার এফআইআর হয়েছে। এত মামলা কীভাবে সামলানো সম্ভব?’
শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘২০০৬-০৭ সালেও আপনাকে নিজের দলের নেতাদের এফআইআর খারিজের মামলায় সওয়াল করতে দেখেছি।’ বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘২০০৬-০৭ সালেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে এত এফআইআর হয়নি। এখন যে সংখ্যায় মামলা হচ্ছে, তার কোনও তুলনা নেই।’
শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি তৃণমূল সাংসদ। আদালতেই তিনি ঘোষণা করেন, আগামী এক বছর দলের বিরুদ্ধে হওয়া যে কোনও মামলায় বিনা পারিশ্রমিকে আইনি লড়াই করবেন। তাঁর বক্তব্য, 'আমি ঠিক করেছি, আগামী এক বছর তৃণমূলের যে কোনও মামলায় কোনও ফি নেব না। দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।'
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওঁর কথার কোনও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গত ১৫ বছর যাঁরা মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যের মূল্য নেই। আমরা নতুন পশ্চিমবঙ্গ গড়ার চেষ্টা করছি।’
{{/usCountry}}কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওঁর কথার কোনও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গত ১৫ বছর যাঁরা মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যের মূল্য নেই। আমরা নতুন পশ্চিমবঙ্গ গড়ার চেষ্টা করছি।’
{{/usCountry}}অন্যদিকে, বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যও এই বিতর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘কল্যাণবাবু তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন। আজ মানুষ বুঝতে পারছে অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য কোথায়। ৩৪ বছরের বাম আমলে মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল। সেই অধিকার নষ্ট করার জন্যই সবাই একজোট হয়েছিল। আজ সেই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট।’
রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্নীতির তদন্ত এবং দলবদলের আবহে একের পর এক আইনি লড়াই এখন শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তারই মধ্যে আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘১৪ হাজার এফআইআর’-এর অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিল। এখন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার বা তদন্তকারী সংস্থাগুলির তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।