Kanti Ganguly on amphan: সময়টা ছিল ২০২০ সালের ২০ মে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় আমফান কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছিল সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকা। সেই ঘূর্ণিঝড়ে একদিকে যেমন ঘর বাড়ি ভেঙে গিয়েছিল, তেমনই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কেন্দ্রের পাঠানো আর্থিক সাহায্য নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ২০২০ সালের আমফান নিয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের ব্যাপক আর্থিক কারচুপি নিয়ে ক্যাগ রিপোর্ট পেশ হয়েছে বিধানসভায়। এই আবহে আমফান দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাতোকে চিঠি লিখলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। উপযুক্ত তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।

২০২০ সালে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকা। পরবর্তীতে সুন্দরবন পুনর্গঠনে রাজ্য ও কেন্দ্র আর্থিক সাহায্য করে। আর সেই অনুদান নিয়ে যে সরকারি স্তরে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে, সেই অভিযোগ উঠেছিল আগেই। যার জন্য সম্প্রতি বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। রিপোর্ট বলছে, ত্রাণ ও নদী বাঁধ পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। এবার তা নিয়ে সরব হলেন প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা রায়দিঘির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বরাবর সুন্দরবন এলাকার কাজকর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘ চার পাতার চিঠি লিখে নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছেন।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর অভিযোগ, সুন্দরবন এলাকায় মৎস্যজীবীদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়াও এই জেলার বারুইপুর, সোনারপুর-সহ যে সমস্ত এলাকায় নদী বা উপকূলবর্তী এলাকা নয় সেখানেও ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি। শুধুমাত্র বারুইপুর ব্লকে যেখানে মাত্র কয়েকটি খাল আছে সেখানেও ২৫০ জন উপভোক্তাকে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। অপরদিকে, ফলতায় ১০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের টাকা দেওয়া হয়। একই অবস্থা ক্যানিং পূর্বেও। যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলা-কে এক সাক্ষাৎকারে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'আমফানে দুর্নীতি। মৎস্যজীবীদের নামে নৌকো কেনার জন্য ১৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বারুইপুরে নৌকো নেই। ক্যানিং ২ নৌকা চলে বলে ৮০ লক্ষ শওকত মোল্লা ঝেরেছে। ফলতায় ১০ হাজার নৌকা চলে বলে জাহাঙ্গী খান টাকা মেরেছে। এক্ষেত্রে গুণ্ডাদমন আইন প্রয়োগ করে দেখান।' অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকার বিজেপি নেতা দিলীপ হালদার বলেন, 'আরও একটা দুর্নীতির অধ্যায় অবশ্যই মুক্ত হতে চলেছে।'