কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হচ্ছে অবশেষে। আপাতত পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে স্টেশনটি। ২০২৫ এর ২৮ জুলাই কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছিল। পিলারে ফাটল এবং অন্যান্য ত্রুটি দেখা যাওয়ায় কবি সুভাষ থেকে মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই রুটে বর্তমানে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে। তবে একবার কাজ শুরু হয়ে গেলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ মনে করছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন নতুন রূপে তৈরি করা হয়ত সম্ভব হবে।

কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের কাজ চালুর জন্য আজ শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে ‘রেক রিভার্সাল’ করা হবে। অর্থাৎ, সেখান দিয়েই যাতে ডাউনের মেট্রো ঘুরে আপ লাইনে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এর জন্য আজ মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এতদিন শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে ট্রেনে ফাঁকা করে দিয়ে সেটি যেত কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনে। সেখানে থেকে ঘুরে আপ লাইনে উঠে সেটি ফের শহিদ ক্ষুদিরামে আসত যাত্রী তুলতে।
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়া কবি সুভাষ স্টেশনের নকশা তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল জানুয়ারি মাসেই। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কবি সুভাষ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পিলারে ফাটল ধরা পড়েছিল। তার জেরে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কবি সুভাষ স্টেশন পর্যন্ত যাত্রীবাহী মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত চালানো হতে থাকে মেট্রো। প্রাথমিকভাবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হলেও যাত্রীদের সমস্যা হবে না। শুধুমাত্র প্রথম ও শেষ স্টেশন পালটে যাচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের সমস্যা যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা পরবর্তী কয়েক মাসেই বোঝা গিয়েছিল। কারণ প্রান্তিক স্টেশন না হওয়ায় শহিদ ক্ষুদিরামে মেট্রো রেক ঘোরানোর জায়গা নেই। ফলে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে যাত্রীদের নামিয়ে খালি রেক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবি সুভাষ স্টেশনে। তারপর সেই রেক ঘুরিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের দিকে। ফলে বাড়তি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। সময় চলছিল না মেট্রো। অনেক মেট্রোই মহানায়ক উত্তর কুমার স্টেশন পর্যন্ত যাচ্ছিল।