পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধায়কের কার্যালয় সংলগ্ন একটি গুদামঘর থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একইসঙ্গে বিধায়কের কার্যালয়ের ভিতরে কন্ডোমের প্যাকেট পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়ক কার্যালয়ের পাশের একটি বন্ধ গুদামঘরের জানালা দিয়ে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বিপুল পরিমাণ সামগ্রী দেখতে পান। তাঁদের দাবি, সেখানে সাদা থান কাপড়, ত্রিপল এবং আমফান-পরবর্তী সময়ের ত্রাণসামগ্রীর মতো বিভিন্ন জিনিস মজুত ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিডিওর নির্দেশে গুদামঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় সেখানে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃতি এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এদিকে গুদামঘর থেকে সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বিধায়ক কার্যালয়ের জানলার কাচ ভেঙে ভিতরের অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। সেই সময় ঘরের ভিতরে কন্ডোমের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও এই বিষয়ে বিধায়কের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিধায়ক নিয়মিত ওই কার্যালয়ে বসতেন এবং সেখান থেকেই দলীয় ও জনসংযোগমূলক কাজ পরিচালনা করতেন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতেই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}স্থানীয়দের দাবি, বিধায়ক নিয়মিত ওই কার্যালয়ে বসতেন এবং সেখান থেকেই দলীয় ও জনসংযোগমূলক কাজ পরিচালনা করতেন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতেই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। বিজেপি নেতা কৃষ্ণকান্ত হালদারের অভিযোগ, বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, সেগুলির উৎস এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্তের পরই বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খণ্ডঘোষের রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।