এবার কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে নোটিস পাঠানো হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বাড়ির সব নির্মাণ বৈধ কি না, তা জানতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই আবহে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পুরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে অভিষেককে। বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিসটি পাঠানো হয়েছে। এর আগে সম্প্রতি ফলতায় প্রচারে গিয়ে অভিষেকের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছিলেন। এরপরই কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে অভিষেকের কাছে গেল নোটিস। জানা গিয়েছে, হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি ছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল ভবন নিয়েও নোটিস পাঠানো হয়েছে।

কী বলা হয়েছে পুরসভার সেই নোটিসে? সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না, বা অতিরিক্ত কোনও নির্মাণের ক্ষেত্রে তা রেগুলারাইজ করানো হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসতেই বেআইনি নির্মাণ রোধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার। তিলজলা কাণ্ডের পরে রাজ্যের বহু জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে কলকাতা পুরসভা আবার তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে। আর বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেককে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস ঘিরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে ১৮ মে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে কলকাতা পুরসভার মেয়র ও মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা সংস্কার, বর্জ্য অপসারণের মতো নাগরিক পরিষেবা যাতে অব্যাহত থাকে, সেই বিষয়ে নির্দেশ দেন মমতা। এদিকে কলকাতা পৌরসভার কমিশনার রাজ্য সরকারের নির্দেশে কাজ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে সম্প্রতি মেয়র পারিষদরা কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইলেও সময় দেননি তিনি। অধিবেশনেও কমিশনার অনুপস্থিত ছিলেন। যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। উল্লেখ্য, তিলজলা কাণ্ডে যে বুলডোজার পাঠানো হয়েছিল, সেটা কলকাতা পুরসভারই। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ আদৌ তৃণমূলের হাতে রয়েছে কি না, এবং কাউন্সিলররা এখনও দলের অনুগত কি না, তা নিয়ে কালীঘাটে সংশয় দেখা দিতেই পারে।