ধর্মতলায় সিজেপি (CJP) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনে হিংসার ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১১ জন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মেটিয়াব্রুজের বাসিন্দা মহম্মদ আফরোজ। এই আফরোজকে ঘিরেই এবার নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ধৃত আফরোজের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ ছিল কি না। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ধর্মতলার হিংসা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ধৃতদের কেউই ছাত্র নন। পুলিশের বক্তব্য, তাঁরা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন।
ধৃতদের মধ্যে মহম্মদ আফরোজের নাম বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলনের পর যাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন, আফরোজ তাঁদের অন্যতম। তদন্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এমন কিছু ভিডিও, যেখানে আফরোজকে তৃণমূলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। সেই ভিডিও ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছবি বা ভিডিও থাকা মানেই সংগঠনগত সম্পর্কের প্রমাণ নয়। তবে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারি এড়াতে মহম্মদ আফরোজ এবং গার্ডেনরিচের বাসিন্দা মহম্মদ আজাদ রাজ্য ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁদের কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ধর্মতলার হিংসার ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা ঠিক কতটা ছিল এবং এর নেপথ্যে কোনও সংগঠিত পরিকল্পনা ছিল কি না।
এদিকে, আন্দোলনের আয়োজক সিজেপি কলকাতা পুলিশকে ইমেল করে দাবি করেছে, গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের কেউই তাদের সংগঠনের সদস্য নন। ফলে ধৃতদের পরিচয় এবং আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের প্রকৃত যোগ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে, আন্দোলনের আয়োজক সিজেপি কলকাতা পুলিশকে ইমেল করে দাবি করেছে, গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের কেউই তাদের সংগঠনের সদস্য নন। ফলে ধৃতদের পরিচয় এবং আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের প্রকৃত যোগ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ডাকা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধর্মতলা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনের মাঝেই পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ইট, বোতল, লাঠি এবং জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। হামলায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধিরাও। আহতদের মধ্যে ছিলেন চিত্রসাংবাদিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, মাখন পাত্র এবং সাংবাদিক সুমন মহাপাত্র।
ঘটনার পর এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সেই ঘোষণার একদিনের মধ্যেই ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মহম্মদ আফরোজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও আরও তীব্র হয়েছে।