আজ সকাল সকাল উত্তর কলকাতার পাইকপাড়ায় অবস্থিত একটি ক্লাবঘরে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে যায় পুলিশ। এরই সঙ্গে পুলিশের বম্ব স্কোয়াডও পৌঁছায় সেখানে। জানা গিয়েছে, একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে সেই ক্লাবঘরে। বিস্ফোরণের জেরে ক্লাবের টিনের চাল উড়ে যায়। সেই টিনের চাল গিয়ে পড়ে পাশের ছ’তলা বাড়ির ছাদে। এদিকে বিস্ফোরণের জেরে ক্লাবঘরে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনার আবহে সংবাদমাধ্যমের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, সেই ক্লাবঘরে বোমা রাখা ছিল। এই বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেকটাই ছিল।

বিস্ফোরণের জেরে ক্লাবঘরের টিন উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেওয়ালও ভেঙে গিয়েছে। আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এই বোমা বিস্ফোরণটি ঘটে। এই ক্লাবঘরটি বিগত ৭ বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে। এদিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় চিৎপুর থানার পুলিশ এবং দমকল। পরে বেলা গড়াতেই আসে বম্ব স্কোয়াড।
পুলিশ তল্লাশি করে ক্লাবঘরের ভিতরে বিস্ফোরকের হদিশ পেয়েছে বলে দাবি করা হয় রিপোর্টে। এই বোমা কোনও নাশকতার জন্য মজুত করা ছিল নাকি প্রোমোটিংয়ের জন্য এই ক্লাবঘরটিকে ধ্বংস করাই এই বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই আবহে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে পরিত্যক্ত ক্লাবঘরে থাকা বাকি বোমাগুলি নিয়ে গিয়ে পুলিশ তা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
এর আগে সাম্প্রতিককালে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কলকাতার নগরদায়রা আদালত, পাসপোর্ট অফিস এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বোমাতাঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সম্প্রতি। এদিকে বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রেললাইনে বোমা পাওয়া গিয়েছিল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। এছাড়াও ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক নিম্ন আদালতকে ই-মেলের মাধ্যমে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের সিউড়ি, আসানসোল জেলা আদালত এবং ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের দেওয়ানি আদালতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই সব হামলার হুমকি ভুয়ো ছিল।