নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন হোটেলের লিজ হোল্ডার। বুধবার গভীর রাতে গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। এন্টালি থানার জোড়াসাঁকোর কাছে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় আরও দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

বুধবার ভোররাতে আগুন লাগে নিউ মার্কেট এলাকার ওই হোটেলে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
আগুন লাগার পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আবাসিক এবং স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। আগুন লাগার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হয়। হোটেলের ভিতরে ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আবাসিকদের বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
তবে ঠিক কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও এই সম্ভাবনা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বৃহস্পতিবার মৃতদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরনিগম। আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ‘শিখা ইন’। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখতে বড়সড় পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরনিগম। আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ‘শিখা ইন’। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখতে বড়সড় পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে শহরের ১৬টি বরোর অধীনে থাকা বাণিজ্যিক কাঠামোর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে এই পরিদর্শন। হোটেল, মার্কেট এবং অন্যান্য জনবহুল জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং সেগুলির মেয়াদ খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও নিয়ম ভাঙার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
এই তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের পাশাপাশি কেএমডিএ, কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসসি-র প্রতিনিধিরা থাকবেন। আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো পরিদর্শনের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
শুধু পুরসভার স্তরেই নয়, রাজ্য প্রশাসনও ঘটনার পর সক্রিয় হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ফায়ার অডিট সংক্রান্ত রিপোর্ট অবিলম্বে তলব করেছেন। কোথায় অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে, কোন কোন হোটেল বা বাণিজ্যিক ভবনে নিয়ম মানা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিউ মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ড তাই শুধু একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা নয়। ন’জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শহরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং গাফিলতির কারণে প্রাণহানি আরও বাড়ল কি না, তার উত্তর খুঁজে বের করা।