ভারতের বিশাল উপকূলরেখা এবং সামুদ্রিক স্বার্থরক্ষায় আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। আগামী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাই বন্দরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে আইএনএস অঞ্জনদীপ। এই রণতরী অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আটটি জাহাজের মধ্যে তৃতীয়। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) সেই রণতরী তৈরি করেছে।
প্রতিরক্ষায় এক নতুন মাইলফলক

বুধবার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, 'লিটোরাল কমব্যাট এনভায়রনমেন্ট' অর্থাৎ উপকূলীয় এবং অগভীর জলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে আইএনএস অঞ্জনদীপ। শুক্রবার এই কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী।
কেন 'ডলফিন হান্টার' বলা হচ্ছে আইএনএস অঞ্জনদীপকে?
আইএনএস অঞ্জনদীপের প্রধান কাজ হল, সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত্রু সাবমেরিন খুঁজে বের করা এবং সেগুলিকে ধ্বংস করা। নৌবাহিনীর পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে 'ডলফিন হান্টার'। সেই জাহাজে কী কী বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে?
১) অ্যাডভান্সড সোনার সিস্টেম: এতে যুক্ত করা হয়েছে 'অভয়' (Abhay) নামক হুল-মাউন্টেড সোনার, যা জলের তলায় অতি ক্ষুদ্র কম্পনও শনাক্ত করতে পারে।
২) বিধ্বংসী অস্ত্র: শত্রু সাবমেরিন ধ্বংসের জন্য এতে রয়েছে লাইটওয়েট টর্পেডো এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW) রকেট।
৩) গতিবেগ: ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটি হাই-স্পিড ওয়াটার-জেট প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা চালিত, যা এটিকে ২৫ নট গতিতে ছুটতে সাহায্য করে। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য এই গতি অত্যন্ত কার্যকর।
কৌশলগত গুরুত্ব ও বহুমুখী ভূমিকা
এই রণতরী কেবল সাবমেরিন হান্টার হিসেবেই নয়, বরং আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে।
{{/usCountry}}এই রণতরী কেবল সাবমেরিন হান্টার হিসেবেই নয়, বরং আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে।
{{/usCountry}}১) উপকূলীয় নজরদারি: তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি-সহ ভারতের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে কড়া নজরদারি চালাবে এটি।
২) অনুসন্ধান ও উদ্ধার: সমুদ্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনে অংশ নিতে পারবে।
৩) স্বল্প-তীব্রতার সামুদ্রিক অপারেশন (LIMO): জলদস্যু দমন বা অনুপ্রবেশ রুখতে এই জাহাজটি হবে নৌসেনার প্রধান অস্ত্র।
আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিফলন
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইএনএস অঞ্জনদীপের অন্তর্ভুক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানের এক বড় সাফল্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত এখন উচ্চপ্রযুক্তির রণতরী তৈরিতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) যখন বিদেশি শক্তির আনাগোনা বাড়ছে, তখন এই ধরনের অত্যাধুনিক নজরদারি জাহাজ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক অভেদ্য বর্ম হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চেন্নাই বন্দরে এই জাহাজের কমিশন হওয়ার ফলে দক্ষিণ ভারতের সামুদ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন মাত্রা পাবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থলে নজরদারি চালানো এখন নৌসেনার জন্য আরও সহজ হবে।