কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে মতবিরোধ সামনে এসেছে। বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা সংক্রান্ত বিধায়কদের সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে এবার তৃণমূলের পুর দলেও ‘সাদা পাতায় সই’ সংগ্রহকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, রবিবার উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার দুটি পৃথক স্থানে দলের কাউন্সিলরদের কাছ থেকে একটি সাদা পাতায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা হয়। সেখানে লেখা ছিল, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে মেয়র হিসেবে মনোনীত করবেন, তাঁর প্রতিই আমার সমর্থন থাকবে।'

সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় কলকাতা পুরসভায় মেয়রের পদ শূন্য হয়েছে। আগামী ছয় মাস পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রয়োজন রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় থাকলেও স্বাক্ষরের জন্য দেওয়া নথিতে কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ ছিল না।
এর আগে রবিবার তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। দলীয় সূত্রে খবর, কাউন্সিলরদের একাংশ নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এই ধরনের সমর্থনপত্র ভবিষ্যতে বিতর্কের কারণ হতে পারে। ফলে নির্ধারিত বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়।
পরবর্তীতে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার দুটি পৃথক স্থানে কাউন্সিলরদের ডেকে সমর্থনের স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একটি বৈঠক উত্তর কলকাতায় এবং অন্যটি ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডে সুব্রত বক্সির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়।
তবে দলীয় সূত্রের দাবি, এই স্বাক্ষর অভিযানে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। তৃণমূলের বর্তমান কাউন্সিলর সংখ্যা ১৩৫ হলেও সংখ্যালঘিষ্ঠতা এড়াতে প্রয়োজন অন্তত ৬৮ জনের সমর্থন। কিন্তু দুই শিবির মিলিয়েও সেই সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে খবর। বিদায়ী বোর্ডের একাধিক মেয়র পারিষদ, বোরো চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরও এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}তবে দলীয় সূত্রের দাবি, এই স্বাক্ষর অভিযানে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। তৃণমূলের বর্তমান কাউন্সিলর সংখ্যা ১৩৫ হলেও সংখ্যালঘিষ্ঠতা এড়াতে প্রয়োজন অন্তত ৬৮ জনের সমর্থন। কিন্তু দুই শিবির মিলিয়েও সেই সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে খবর। বিদায়ী বোর্ডের একাধিক মেয়র পারিষদ, বোরো চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরও এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে, নতুন মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরের সমর্থন নেওয়া আইনসিদ্ধ বলেই দাবি করেছেন তৃণমূলের একাংশ। অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠীর বক্তব্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের স্বাক্ষর সংগ্রহ ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা আরও বাড়াতে পারে। ফলে কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে অনিশ্চয়তা ও টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।