...
...
Next Story

কলকাতাকে ঘিরে আউটার রিং-রোড, পাঁচ জেলায় মেগা পরিকাঠামো প্রকল্প

প্রস্তাবিত রিং-রোড প্রকল্পের অন্যতম বড় অংশ হবে গঙ্গার উপর বা নিচ দিয়ে নতুন সংযোগ ব্যবস্থা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় হুগলি সেতুর পাশে একটি নতুন সেতু নির্মাণ অথবা গঙ্গার তলা দিয়ে একটি দীর্ঘ টানেল তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Published on: Jul 29, 2026, 10:52:35 IST
Advertisement

বাংলায় শিল্প, বাণিজ্য এবং নগর পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ধাঁচে এবার কলকাতাকে ঘিরে একটি আউটার রিং-রোড নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা-সহ পাঁচটি জেলাকে যুক্ত করে গড়ে উঠবে এই মেগা পরিকাঠামো প্রকল্প। সরকারের দাবি, এই রিং-রোড তৈরি হলে শুধু যানজট কমবে না, শিল্প ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলবে।

প্রস্তাবিত রিং-রোড প্রকল্পের অন্যতম বড় অংশ হবে গঙ্গার উপর বা নিচ দিয়ে নতুন সংযোগ ব্যবস্থা।
প্রস্তাবিত রিং-রোড প্রকল্পের অন্যতম বড় অংশ হবে গঙ্গার উপর বা নিচ দিয়ে নতুন সংযোগ ব্যবস্থা।

প্রস্তাবিত রিং-রোড প্রকল্পের অন্যতম বড় অংশ হবে গঙ্গার উপর বা নিচ দিয়ে নতুন সংযোগ ব্যবস্থা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় হুগলি সেতুর পাশে একটি নতুন সেতু নির্মাণ অথবা গঙ্গার তলা দিয়ে একটি দীর্ঘ টানেল তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গঙ্গার পূর্ব তীর ধরে দ্বিতীয় হুগলি সেতু থেকে দক্ষিণেশ্বরের নিবেদিতা সেতু পর্যন্ত চার লেনের একটি বিশেষ করিডর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর জানিয়েছে, দুর্গাপুজোর পর থেকেই প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষার কাজ শুরু করতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা রাইটস। ইতিমধ্যেই ট্রাফিক, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখার জন্য রাইটসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কলকাতাকে ঘিরে একটি আধুনিক রিং-রোড তৈরির লক্ষ্যেই এই সমীক্ষা শুরু হচ্ছে। তাঁর মতে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের জন্য নতুন করে খুব বেশি জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। গঙ্গার ধারের বন্দর এলাকার জমি এবং ইতিমধ্যেই থাকা প্রশস্ত সড়ক ব্যবহার করেই অধিকাংশ রুট নির্মাণ করা হবে। তবে যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে দখলদার উচ্ছেদ করে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হবে।

সূত্রের খবর, গত দেড় মাসে পূর্ত দফতর, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং কেএমডিএ-র শীর্ষ আধিকারিকরা একাধিক বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা তৈরি হয়েছে এবং কলকাতার চারপাশে থাকা জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গাপুজোর পর রাইটসের বিশেষজ্ঞরা স্যাটেলাইট চিত্র, ড্রোন জরিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্ভাব্য রুট নির্ধারণ করবেন। এরপর বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর তৈরি করা হবে।

অতীতে এই রিং-রোডের পরিকল্পনা থাকলেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবার সরকারের দাবি, অর্থ কোনও বাধা হবে না। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী বাংলার নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সরকারের আশা, এই রিং-রোড নির্মিত হলে আগামী একশো বছরের চাহিদা মাথায় রেখে কলকাতা ও সংলগ্ন পাঁচ জেলার পরিবহণ ব্যবস্থা নতুন রূপ পাবে। একই সঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ, লজিস্টিকস, বন্দর পরিষেবা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe