...
...
Next Story

বিকল ইন্ডিগোর বিমানের ইঞ্জিন! ৩ সাংসদ-সহ ৬৭ যাত্রী ছিলেন সেই কলকাতা-শিলং উড়ানে

কলকাতা থেকে শিলং যাওয়ার কথা ছিল ইন্ডিগোর একটি বিমানের। কিন্তু রানওয়ের দিকে এগোনোর সময়ই আচমকা বিকল হয়ে যায় বিমানের একটি ইঞ্জিন। সেই বিমানে ছিলেন তিন সাংসদ-সহ অন্তত ৬৭ জন যাত্রী। ঘটনার জেরে প্রায় দু'ঘণ্টা বিমানের ভিতরেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের।

Published on: Nov 2, 2026, 13:45:01 IST
Advertisement

বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বিমানের যাত্রীরা। কলকাতা থেকে শিলং যাওয়ার কথা ছিল ইন্ডিগোর একটি বিমানের। কিন্তু রানওয়ের দিকে এগোনোর সময়ই আচমকা বিকল হয়ে যায় বিমানের একটি ইঞ্জিন। সেই বিমানে ছিলেন তিন সাংসদ-সহ অন্তত ৬৭ জন যাত্রী। ঘটনার জেরে প্রায় দু'ঘণ্টা বিমানের ভিতরেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত উড়ান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। এই ঘটনায় বিমান সংস্থার পাশাপাশি দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডিএমকে সাংসদ পি উইলসন। শুধু তদন্ত নয়, নিরাপত্তার সঙ্গে আপস হলে বিমান সংস্থার লাইসেন্স বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

FILE PHOTO: An IndiGo Airbus A321neo is displayed during the Wings India 2026 civil aviation event at Begumpet airport in Hyderabad, India, January 29, 2026. REUTERS/Priyanshu Singh/File Photo (REUTERS)
FILE PHOTO: An IndiGo Airbus A321neo is displayed during the Wings India 2026 civil aviation event at Begumpet airport in Hyderabad, India, January 29, 2026. REUTERS/Priyanshu Singh/File Photo (REUTERS)

সোমবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শিলংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ইন্ডিগোর 6E 7423 উড়ানের। একটি যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) প্রকাশ্য শুনানিতে যোগ দিতে শিলং যাচ্ছিলেন সাংসদরা। সেই কারণেই বিমানে ছিলেন রাজ্যসভার ডিএমকে সাংসদ পি উইলসন-সহ আরও দুই সাংসদ। এ ছাড়াও ছিলেন ৬৭ জন যাত্রী। উইলসন সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, বিমানটি পার্কিং বে থেকে রানওয়ের দিকে এগোচ্ছিল। আচমকাই সেটি থেমে যায়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, বিমানের একটি ইঞ্জিন কাজ করছে না। ওড়ার আগেই ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন পাইলট।

এর পরেও যাত্রীদের দ্রুত বিমান থেকে নামানো হয়নি বলে অভিযোগ। প্রায় দু'ঘণ্টা তাঁদের বিমানের ভিতরেই অপেক্ষা করতে হয়। পরে পাইলট ঘোষণা করেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই উড়ান বাতিল করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। মাঝ আকাশে এই ধরনের বিপত্তি ঘটলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, সেই প্রশ্নও তুলেছেন উইলসন।

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি। সাংসদের দাবি, দেশে চলাচলকারী সমস্ত বিমানের এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেট বা উড়ানের উপযুক্ত হওয়ার শংসাপত্র নতুন করে খতিয়ে দেখা হোক। প্রয়োজনে নজরদারি সংস্থার মাধ্যমে আচমকা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও বিমানকে অনিরাপদ বলে চিহ্নিত করা হলে তার শংসাপত্র বাতিল করে সেটিকে অবিলম্বে বসিয়ে দিতে হবে।

শুধু একটি বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বিমান সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসাজশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন উইলসন। তাঁর দাবি, কিছু বিমান সংস্থা এবং ডিজিসিএ-র কিছু আধিকারিকের মধ্যে অশুভ বোঝাপড়ার কারণে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। এমন ঘটনা বন্ধ করতে দোষীদের শাস্তি এবং দায়িত্বে গাফিলতি করা আধিকারিকদের বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উইলসনের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ বিমানে ওঠেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছনোর বিশ্বাস নিয়ে। সেই বিশ্বাসের সঙ্গে কোনও ভাবেই আপস করা যায় না। বিমান সংস্থা যদি যাত্রীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দেয়, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের উচিত কঠোর পদক্ষেপ করা। এমনকি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার লাইসেন্সও বাতিল করতে হবে।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ইন্ডিগো বা ডিজিসিএ-র তরফে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার কথা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। ফলে বিমানের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। তবে কলকাতা বিমানবন্দরের এই ঘটনা দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks