CM Suvendu on Kolkata Student Protest: শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদের নামে বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা মিছিল ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আয়োজিত ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর অবস্থান বিক্ষোভ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন একাধিক সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক। আহত কয়েকজনকে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাত প্রায় সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি এসএসকেএমে যান এবং প্রায় আধঘণ্টা ধরে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, 'কটা দিন অপেক্ষা করুন, ওদের কী করতে হয়, আমি জানি। এই ‘শুক্রবারি’দের দেখিয়ে দেব।' তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল ছাড়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে যান ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর বক্তব্য, 'এটা কোনও ছাত্র আন্দোলনের রূপ নয়। এটা চূড়ান্ত স্বৈরাচার। যেসব ভিডিও দেখলাম, তাতে প্রতিবাদীদের যে ভাষা ও আচরণ দেখেছি, তাতে আমি বিস্মিত। এটা ছাত্রদের আন্দোলন বলে মনে হয় না।'
এদিকে, ঘটনার পর আন্দোলন ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ‘ককরোচ’ সমর্থকদের একাংশের দাবি, মিছিলে বহিরাগত এবং দেশবিরোধী মানসিকতার কিছু ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। ফলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।
{{/usCountry}}এদিকে, ঘটনার পর আন্দোলন ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ‘ককরোচ’ সমর্থকদের একাংশের দাবি, মিছিলে বহিরাগত এবং দেশবিরোধী মানসিকতার কিছু ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। ফলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তা দেদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনার দায় এড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলনের নামে কোনও ধরনের হিংসা বা গুন্ডামি তাঁরা সমর্থন করেন না। তিনি বলেন, 'ঝামেলা চাইলে আসবেন না। যাঁরা অশান্তি চাইছেন, তাঁদের আন্দোলনে আসার প্রয়োজন নেই। এই গুন্ডামি আমরা চাই না। আমরা আমাদের দাবিকে সামনে রেখেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার ছবি এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
ধর্মতলার এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে হিংসা ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রবণতা কতটা উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এখন নজর পুলিশের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।