প্রেমিকার ইন্টারভিউ আটকাতে খোদ বহুজাতিক সংস্থায় ইমেল পাঠিয়ে 'বোমাতঙ্ক' ছড়ালেন প্রেমিক। ঠিক এমনই কাজ করেছেন কলকাতার এক যুবক। বুধবার গুরুগ্রাম পুলিশ ২৯ বছরের এক আইন বিশেষজ্ঞকে গ্রেফতার করেছে। যিনি প্রেমিকার সঙ্গে মনমালিন্যের পরে যে সংস্থায় যুবতী ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলেন, সেটিকেই উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ২৯ বছরের কলকাতার যুবক।
কী ঘটেছিল আসলে?

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক কলকাতার বাসিন্দা। তিনি লন্ডনের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি সংস্থায় আইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। গত মঙ্গলবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৩-এর ডিএলএফ হরাইজন সেন্টার বিল্ডিংয়ে একটি ইমেল আসে। ইমেলে দাবি করা হয় যে, ওই অফিসে বোমা রাখা আছে। যে কোনও সময় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছায় বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং ডগ স্কোয়াড। পুরো অফিস খালি করে দীর্ঘ তল্লাশি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। এরপরই ওই ভবনের নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থা 'কর্পোরেট এজ'-এর পক্ষ থেকে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
কেন এই কাণ্ড? যুবকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
তদন্তে নেমে গুরুগ্রাম পুলিশ সেক্টর ৩১ থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় যা বেরিয়ে এসেছে, তাতে পুলিশ অফিসারদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় বয়েছে। ডিএলএফের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিকাশ কৌশিক জানান, প্রেমিকার সঙ্গে কয়েকদিন ধরেই মনমালিন্য চলছিল যুবতের। ঘটনার দিন তাঁর প্রেমিকার ওই ডিএলএফ হরাইজন সেন্টারের একটি সংস্থায় ইন্টারভিউ দেওয়ার কথা ছিল। অভিযুক্ত যুবক মনে করেছিলেন, যদি কোনওভাবে ইন্টারভিউটি বন্ধ করে দেওয়া যায়, তবে প্রেমিকা সমস্যায় পড়বেন। সেই সময় তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে পুরনো বিবাদ মিটিয়ে নিতে পারবেন। সেইমতো তিনি ইন্টারনেট থেকে খুঁজে বের করেন ওই বিল্ডিংয়ের ইমেল অ্যাড্রেস এবং পাঠিয়ে দেন ভুয়ো বোমাতঙ্কের বার্তা।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশ অভিযুক্তের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের অতীতে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। স্রেফ হঠকারিতা এবং সম্পর্কের জটিলতার কারণেই তিনি এমন কাজ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, একজন উচ্চশিক্ষিত আইন বিশেষজ্ঞ হয়েও কীভাবে তিনি এমন বেআইনি কাজ করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
{{/usCountry}}পুলিশ অভিযুক্তের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের অতীতে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। স্রেফ হঠকারিতা এবং সম্পর্কের জটিলতার কারণেই তিনি এমন কাজ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, একজন উচ্চশিক্ষিত আইন বিশেষজ্ঞ হয়েও কীভাবে তিনি এমন বেআইনি কাজ করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
{{/usCountry}}