...
...
Next Story

Kunal Ghosh: ভোটের পর তৃণমূলে ফেরার হিড়িক? বহু বিধায়ক-সাংসদ যোগাযোগে, বিস্ফোরক দাবি কুণালের

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে সকলকে এক চোখে দেখা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, বিধায়কদের মধ্যে ৮-১০ জন এমন রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম বা অন্য অভিযোগ আড়াল করতেই দল বদলেছেন।

Published on: Sep 6, 2026, 20:10:28 IST
Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল ছেড়ে একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ অন্য শিবিরে গিয়েছেন। সেই নেতাদের একাংশ কি ফের তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন? বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের রবিবারের মন্তব্যে নতুন করে জোরাল হয়েছে সেই জল্পনা। তাঁর দাবি, দল ছেড়ে যাওয়া অনেক বিধায়ক এবং সাংসদ এখনও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে তাঁদের সবাইকে এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Kolkata: Trinamool Congress (TMC) MLA Kunal Ghosh addresses media persons during a press conference regarding the alleged attack on former West Bengal chief minister Mamata Banerjee's convoy in Halishahar, at the West Bengal Legislative Assembly, in Kolkata, Monday, Aug. 10, 2026. (PTI Photo)(PTI08_10_2026_000233A) (PTI)
Kolkata: Trinamool Congress (TMC) MLA Kunal Ghosh addresses media persons during a press conference regarding the alleged attack on former West Bengal chief minister Mamata Banerjee's convoy in Halishahar, at the West Bengal Legislative Assembly, in Kolkata, Monday, Aug. 10, 2026. (PTI Photo)(PTI08_10_2026_000233A) (PTI)

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে সকলকে এক চোখে দেখা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, বিধায়কদের মধ্যে ৮-১০ জন এমন রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম বা অন্য অভিযোগ আড়াল করতেই দল বদলেছেন। আবার কয়েকজন পুরনো মামলার ভয় থেকে অন্য শিবিরে গিয়েছেন। কারও ক্ষেত্রে ভিত্তিহীন মামলায় হয়রানির হুমকিও কাজ করেছে বলে দাবি করেন কুণাল।

তবে তাঁর কথায়, এর বাইরেও বেশ কিছু নেতা রয়েছেন, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তাঁদের কেউ সরাসরি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করেন বেলেঘাটার বিধায়ক। এমনকি তাঁরা এখনও অন্য শিবিরে থাকলেও তৃণমূলের জন্য কিছুটা সুবিধা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কুণালের ব্যাখ্যা, এখনই সবাইকে প্রকাশ্যে সামনে এনে রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় করা হচ্ছে না নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কোনও নেতাকে সাংবাদিক বৈঠকের পাশে বসালেও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতা দলের নেই। বিশেষ করে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় যদি কোনও সমস্যা বা হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে নিয়মিত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়াও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সবাইকে যে ফেরানো হবে না, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন কুণাল। কারও নাম না করে তিনি বলেন, বিশেষ কয়েকজন নেতা এমন ‘অসভ্যতা’ করেছেন যে তাঁদের আর দলে জায়গা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। এমনকি কালীঘাটের আশেপাশে তাঁদের দেখা গেলে দলের কর্মী-সমর্থকদের ‘গুড়-বাতাসা’ দিয়ে আপ্যায়ন করার মন্তব্যও করেন তিনি। এই মন্তব্যেই তৃণমূলের প্রাক্তন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বহুলচর্চিত ‘গুড়-বাতাসা’ মন্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়।

কুণালের এই মন্তব্য ঘিরে অবশ্য পাল্টা আক্রমণ এসেছে তৃণমূলেরই একাংশ থেকে। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় কুণালকে কটাক্ষ করে বলেন, বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় থাকার চেষ্টা তাঁর পুরনো অভ্যাস। তাঁর দাবি, কুণাল যাঁদের সঙ্গে আছেন, তাঁদের অনেকেই আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে দলত্যাগী নেতাদের ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে, অন্যদিকে কোন নেতাদের গ্রহণ করা হবে এবং কারা চিরতরে ‘বাতিল’—তা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ।

কুণাল ঘোষের দাবি সত্যি হলে, নির্বাচনের ধাক্কার পর তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া একাংশের মধ্যে ফের ঘরে ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে সেই প্রত্যাবর্তন কবে এবং কোন নেতাদের নিয়ে হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। আপাতত কুণালের মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe