দুর্গাপুজোর আগে ফের বাড়তে পারে মদের দাম। রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই দেশি মদ, বিদেশি মদ এবং বিয়ার—তিন ধরনের পানীয়ের জন্য নতুন মূল্য কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডের সাম্প্রতিক নোটিস এবং বৈঠককে ঘিরে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এখনও কোন ব্র্যান্ডের দাম কতটা বাড়বে, সেই হিসাব প্রকাশ্যে আসেনি।

সরকারি বেভকো পোর্টালে ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত EoI প্রি-বিড বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেশি মদ, বিয়ার এবং বিদেশি মদ সরবরাহ নিয়ে সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তিন ধরনের পণ্যের জন্যই নতুন EoI প্রকাশ করা হয়েছে।
১ অক্টোবর থেকে নতুন দাম?
পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে মদের নতুন মূল্য কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে পুজোর আগেই রাজ্যের মদপ্রেমীদের খরচ বাড়তে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নতুন মূল্য কাঠামো তৈরি হলেও, সব মদের দাম যে একই হারে বাড়বে এমন কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। এমনকি ঠিক কত শতাংশ বা কত টাকা দাম বাড়তে পারে, সেই বিষয়েও এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সরকারি আবগারি দফতরের পোর্টালেও বর্তমানে নতুন মূল্য বৃদ্ধির নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশিত হয়নি। সেখানে বিভিন্ন সরবরাহ সংক্রান্ত নোটিস এবং সাম্প্রতিক বৈঠকের তথ্যই রয়েছে।
রাজস্ব বাড়ানোই কি মূল লক্ষ্য?
মদের উপর আবগারি শুল্ক ও বিক্রয় থেকে রাজ্য সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে। তাই রাজস্বের পরিমাণ বাড়াতে মূল্য কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি আবগারি দফতরও তাদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে রাজ্যের প্রাপ্য রাজস্বের সম্ভাবনাকে সর্বাধিক করার কথা জানিয়েছে।
{{/usCountry}}মদের উপর আবগারি শুল্ক ও বিক্রয় থেকে রাজ্য সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে। তাই রাজস্বের পরিমাণ বাড়াতে মূল্য কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি আবগারি দফতরও তাদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে রাজ্যের প্রাপ্য রাজস্বের সম্ভাবনাকে সর্বাধিক করার কথা জানিয়েছে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে নতুন করে মদের দাম নির্ধারণ করলে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত অর্থ আসতে পারে। তবে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ ক্রেতার পকেটে। বিশেষ করে পুজোর মরসুমে মদের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। সেই সময় দাম বাড়লে মাসের খরচে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিন ধরনের মদই নজরে
এবার শুধু বিদেশি মদ নয়, দেশি মদ এবং বিয়ারকেও একই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। বেভকোর সরকারি নথি অনুযায়ী, এই তিনটি বিভাগেই সরবরাহকারী ও প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারিত রয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মূল্য কাঠামো—দুই দিকেই এখন প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। এর পরেই নির্দিষ্ট পণ্যের নতুন MRP চূড়ান্ত হতে পারে।
পুজোয় এক দিন মদ বিক্রি বন্ধ
এরই মধ্যে দুর্গাপুজোকে ঘিরে মদ বিক্রির উপর আলাদা নিষেধাজ্ঞার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মহাষ্টমীর দিন রাজ্যের মদের দোকান এবং বার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে মহাষ্টমী পড়ছে ১৯ অক্টোবর।
ফলে একদিকে পুজোর আগে সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে মহাষ্টমীর দিন বিক্রি বন্ধ—দুই সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শেষ কথা এখনও দামের অঙ্কে
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত এক বোতল মদ বা এক ক্যান বিয়ারের দাম কতটা বাড়বে। সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারি নথিতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন মূল্য কাঠামোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিললেও নির্দিষ্ট মূল্যবৃদ্ধির হার প্রকাশ করা হয়নি।
তাই আপাতত পুজোর আগে মদের দাম বাড়ার সম্ভাবনাই আলোচনায়। চূড়ান্ত মূল্যতালিকা প্রকাশ হলেই পরিষ্কার হবে, কোন ব্র্যান্ডে কতটা বাড়তি খরচ করতে হবে ক্রেতাদের।