Low Pressure in Bay of Bengal: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর জোড়া প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি, যা সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এরই মধ্যে সপ্তাহান্তের ছুটিতে দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে উপচে পড়ে পর্যটকদের ভিড়। তবে উত্তাল সমুদ্রের কারণে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সমুদ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সোমবার পর্যন্ত পর্যটকদের সমুদ্রে নামা এবং স্নান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় লাগাতার মাইকিং করে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৈকতজুড়ে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, নুলিয়া এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। সমুদ্রের দিকে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনও পর্যটক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জলে না নামেন।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিশাল ঢেউ বারবার আছড়ে পড়ছে উপকূলে। ফলে ছুটির আনন্দে দিঘায় এসে সমুদ্রে স্নান করতে না পেরে অনেক পর্যটকই হতাশ। তবে সেই হতাশার মাঝেও অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে উত্তাল সমুদ্রের রুদ্র রূপ উপভোগ করছেন। প্রকৃতির এই ভয়ংকর অথচ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ।
শুধু পর্যটকদের জন্যই নয়, মৎস্যজীবীদের জন্যও একাধিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ, সোমবার পর্যন্ত কোনও ট্রলারকে নতুন করে গভীর সমুদ্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। যাঁরা ইতিমধ্যেই মাছ ধরতে সমুদ্রে গিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে প্রশাসন।
{{/usCountry}}শুধু পর্যটকদের জন্যই নয়, মৎস্যজীবীদের জন্যও একাধিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ, সোমবার পর্যন্ত কোনও ট্রলারকে নতুন করে গভীর সমুদ্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। যাঁরা ইতিমধ্যেই মাছ ধরতে সমুদ্রে গিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে প্রশাসন।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, সুন্দরবন উপকূলেও তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার অধীন ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ স্পিডবোট নিয়ে নদীপথে টহল দিচ্ছে। নদীর বিভিন্ন ঘাট, খাঁড়ি এবং মাছ ধরার গুরুত্বপূর্ণ রুটে মাইকিং করে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হচ্ছে। বারবার জানানো হচ্ছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই গভীর সমুদ্রে যাওয়া যাবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, উপকূলবর্তী সমস্ত ঘাটে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নদীপথে নিয়মিত টহলদারি চালিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে কোনও ট্রলার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে না যায়। পাশাপাশি উপকূল এলাকার বাসিন্দাদেরও প্রয়োজন ছাড়া নদী বা সমুদ্রের ধারে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।