চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পরেই তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এই দুই ঘটনাকে সামনে রেখে এবার প্রশ্ন তুললেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর দাবি, অভিষেকের বিদেশযাত্রা এবং সুমিতের গ্রেফতারির সময়ের মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিষেকের বিদেশে থাকা ও জীবনযাপন নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
‘সুমিতকে ধরার চেষ্টা আগেও চলছিল’

অভিষেক যত দিন রাজ্যে ছিলেন, তত দিনেও সুমিত রায়কে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল বলে দাবি করেছেন মদন। তাঁর বক্তব্য, সুমিতকে খোঁজা এবং গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের তরফে আগেও নানা পদক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক বিদেশে যাওয়ার পরই সুমিত গ্রেফতার হলেন। এই সময়ের ব্যবধান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে সুমিতের গ্রেফতারির সঙ্গে অভিষেকের বিদেশযাত্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তার কোনও প্রমাণ মদন মিত্র দেননি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
‘মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক, লং আইল্যান্ডে বিলাসবহুল ভিলা?’
এর পাশাপাশি অভিষেকের বিদেশ সফর নিয়ে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মদন। তাঁর দাবি, নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড এবং নিউ জার্সি এলাকার মতো অত্যন্ত খরচের জায়গায় কীভাবে কয়েক সপ্তাহের জন্য বিলাসবহুল ভিলা ভাড়া নিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে আসা উচিত।
মদনের বক্তব্য, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক হিসেবে পরিচিত অভিষেক কীভাবে এমন উচ্চমূল্যের এলাকায় এত খরচ করে থাকছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, লং আইল্যান্ডে বিশ্বের অত্যন্ত ধনী মানুষদের বসবাস এবং সেখানে তিন সপ্তাহের জন্য ভিলা ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষেরও নজরে আসা স্বাভাবিক।
‘প্রশাসন একটু খোঁজ নিক’
এই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে খোঁজ নেওয়ার আবেদনও করেছেন মদন। তিনি জানতে চেয়েছেন, অভিষেকের বিদেশযাত্রার খরচ, থাকার ব্যবস্থা এবং সুমিত রায়ের গ্রেফতারির সময়—এই সব বিষয় একসঙ্গে দেখলে কোনও প্রশ্ন তৈরি হয় কি না।
{{/usCountry}}এই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে খোঁজ নেওয়ার আবেদনও করেছেন মদন। তিনি জানতে চেয়েছেন, অভিষেকের বিদেশযাত্রার খরচ, থাকার ব্যবস্থা এবং সুমিত রায়ের গ্রেফতারির সময়—এই সব বিষয় একসঙ্গে দেখলে কোনও প্রশ্ন তৈরি হয় কি না।
{{/usCountry}}মদনের কথায়, বাংলার মানুষের একাংশ যখন বন্যা বা দুর্যোগে বিপাকে, তখন একজন জনপ্রতিনিধি বিদেশে গিয়ে বিলাসবহুল এলাকায় রয়েছেন—এমন ছবি রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, অভিষেকের বিদেশযাত্রাকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন মদন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মদন মিত্রের এমন মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও চার্টার্ড বিমান ব্যবহার নিয়ে তাঁকে কড়া আক্রমণ করেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক। পরে দলীয় রাজনীতিকে ঘিরে একাধিক বিতর্কেও অভিষেকের নাম তুলে সরব হয়েছেন তিনি।
কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে রীত তৃণমূলের টানাপড়েনের সময়ও মদনের মন্তব্য নিয়ে তুমুল চর্চা হয়েছিল। এমনকী, অভিষেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।
এবার নতুন করে সামনে এসেছে ‘লং আইল্যান্ডের বিলাসবহুল ভিলা’ প্রসঙ্গ। ফলে সুমিত রায়ের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে অভিষেকের বিদেশযাত্রা—দুই ঘটনাকেই সামনে রেখে তৃণমূলের অন্দরেই নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মদনের মন্তব্যের পর এখন নজর, দল বা অভিষেকের তরফে এই অভিযোগের কী জবাব আসে।