বাবার নাম রামকৃষ্ণ, মা সারদামণি। আর এর জেরেই এসআইআর-এর শুনানিতে মহাফাঁপড়ে পড়লেন রামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রমের মহারাজ রাঘবানমদ পুরি। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর চাপানউতোর। নির্বাচন কমিশনের সরব হয়েছেন খোদ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।

এসআইআর শুনানিতে তলব করতেই মঙ্গলবার তৃণমূল নেতারই মহারাজকে নিয়ে মহকুমা শাসকের দফতরে নিয়ে আসেন। যদিও শুনানিতে ডাক পাওয়ায় খানিক বিরক্তই মহারাজ। তিনি বলেন, 'আমি ধর্মে দিক্ষিত। আমার পাসপোর্ট থেকে সবেতেই বাবা মায়ের নাম এভাবেই আছে। আমরা সন্ন্যাসী। আগের নাম ব্যবহার করব না। নাম কেটে দিলে দেবে।' তিনি আরও বলছেন, 'সন্ন্যাসীদের ইষ্টদেব শ্রী রামকৃষ্ণ। সেই কারণেই তাঁর নাম আমি বলব। সব ডকুমেন্টেই এটা করা আছে। আমরা সন্ন্যাসী হয়ে গেলে আমাদের ডকুমেন্ট এভাবেই করা হয়। আমি ২০০২ সালে শিলিগুড়িতে এসেছি। তারপর থেকে আমি ডকুমেন্টগুলি তৈরি করেছি। ভোটও দিয়েছে বেশ কয়েকবার।'
অন্যদিকে, এদিন এসআইআর শুনানি চলাকালীন শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন মেয়র গৌতম দেব। তবে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়নি। দলের কাউন্সিলরদের নিয়েই ওই শুনানি কেন্দ্র ঘুরে দেখেন তিনি। কিন্তু যে ঘরে শুনানি চলছিল সেখানে অবশ্য ঢোকেননি তিনি। সেখানেই রাঘবানমদ পুরিকে ডাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। গৌতম দেব বলেন, ওরা মহারাজকেও ছাড়ছে না। শুনানিতে ডাকছে। বাংলা এর জবাব দেবে। গৌতম দেব আরও বলেন, 'মহারাজদের একটা পরম্পরা আছে। তাঁরা যখন সন্ন্যাস নেন তখন তাঁরা আগের জন্ম থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে দীক্ষিত হন। তখন তাঁদের মা বাবার নামও সেই ভাবেই দেন। এই সাধু-সন্ন্যাসীরাই আমাদের পথ প্রদর্শক। এখন তাঁদের ভোটার লিস্টে নাম থাকবে না, তাঁদের যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে তা বাংলা মানবে না। বাংলা আধ্যাত্বিকতার দেশ, স্বামীজির দেশ, রামকৃষ্ণ পরমহংসের দেশ। এটা সাধকদের জায়গা। তাঁদের এভাবে হেনস্থা বাংলা মানবে না।'
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ভোটার তালিকার এসআইআর বা নিবিড় সংশোধন পর্ব চলছে। গণনা প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এরপর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তারপর শুরু হয়েছে শুনানির পর্ব। এই পর্বে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ডাকতে শুরু করেছে। তাঁদের নথি দেখাতে বলা হচ্ছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ভোটার তালিকার এসআইআর বা নিবিড় সংশোধন পর্ব চলছে। গণনা প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এরপর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তারপর শুরু হয়েছে শুনানির পর্ব। এই পর্বে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ডাকতে শুরু করেছে। তাঁদের নথি দেখাতে বলা হচ্ছে।
{{/usCountry}}