পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর পূর্ণাবয়ব মূর্তির অবমাননার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে স্টেশনবাজার চৌরাস্তার মোড়ে থাকা গান্ধীজির মূর্তির মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা এবং হাতে থাকা লাঠিতে নোংরা কাপড় জড়ানো অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যস্ততম এলাকায় এমন ঘটনার ছবি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র নিন্দা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

জানা গিয়েছে, ১৯৯৮ সালে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে কাটোয়া পুরসভার উদ্যোগে স্টেশনবাজার চৌরাস্তায় মহাত্মা গান্ধীর এই পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়। গান্ধীজির ঐতিহাসিক ডান্ডি অভিযানের আদলে নির্মিত এই মূর্তিতে প্রতি বছর গান্ধী জয়ন্তী-সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত।
বুধবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান, মূর্তির মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং হাতে থাকা লাঠিতে জড়িয়ে রাখা হয়েছে নোংরা কাপড়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
কাটোয়া পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, মহাত্মা গান্ধী শুধু কংগ্রেসের নন, তিনি সমগ্র দেশের জাতির জনক। তাঁর আদর্শ ও অবদান আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তিনি বলেন, যদি কোনও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি এই কাজ করে থাকেন, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এই ঘটনাকে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এটি শুধু গান্ধীজির মর্যাদাহানিই নয়, জাতীয় মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এই ঘটনাকে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এটি শুধু গান্ধীজির মর্যাদাহানিই নয়, জাতীয় মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
{{/usCountry}}খবর পেয়ে বুধবার সকালেই কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তি থেকে কাপড় সরিয়ে দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফুটেজ খতিয়ে দেখে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।