CM Suvendu Adhikari: এবার ধানচাষিদের জন্য কল্পতরু হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এখন থেকে ধান নিয়ে আর কষ্ট করতে হবে না, কৃষকদের কাছ থেকে সব ধান কিনে নেবে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। শুধু তাই নয় প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা ভর্তুকি (Farmer Electricity Subsidy) দেওয়া হবে বলেও বড় ঘোষণা করলেন তিনি। এতদিন পূর্বতন সরকারের আমলে আবাসন দুর্নীতি, বালি পাচার, চাষীদের দুর্ভোগের নানা অভিযোগ উঠে এসেছিল। কিন্তু এবার সেই অভিযোগগুলিকে সামনে রেখে একের পর এক সুবিধা প্রদানের ঘোষণা করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
বিদ্যুতে ছাড় দেবে সরকার

শুক্রবার পূর্ববর্ধমানে বিদ্যুৎ ও পূর্ত দফতরের কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কৃষকদের সুবিধার্থের কথা মাথায় রেখে নানা সুবিধার কথা ঘোষণা করেন। পুজোর আগেই কৃষকদের জন্য বিদ্যুতে বড় স্বস্তি দিতে তিনি বলেন, 'বছরে বিদ্যুৎ বিলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছাড় দেবে সরকার। প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে ইউনিট পিছু ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে।' মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'পূর্ব বর্ধমানের মানুষ উজার করে দিয়েছেন আমাদের, এবার আমাদের দায়িত্ব উন্নয়ন উজার করে দেওয়ার। ৪ লক্ষ কৃষকদের জন্য বাড়তি ৩০০ কোটি টাকা দেবে সরকার।' জানা গিয়েছে এই কর্মসূচির সুবিধা অগাস্ট মাস থেকে পাবেন কৃষকরা।
পূর্ব বর্ধমানকে ‘গর্বের শস্য ভান্ডার’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, 'পিএম কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে বছরে ৬ হাজার করে পেতেন কৃষকরা। আমরা ভেরিফিকেশন করেছি। আবেদনকারীদের যুক্ত করে ৬ হাজারের সঙ্গে আরও ৩ হাজার যোগ করে মোট ৯ হাজার পাবে।' তিনি এও বলেন, '৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকবন্ধু ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে। যাদের জমি আছে, তারা ৪ হাজার টাকা পাবেন এক বছরে। বেশি জমি যাদের, তাদের ৬ হাজার দেবে সরকার। ৫ একর পর্যন্ত যাদের জমি আছে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হিসেবে ২৭০০ টাকা ক্যুইন্টাল প্রতি ধান কিনবো।'
ধানচাষীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা
এদিন ধানের ব্যবসায় যুক্ত ‘মিডলম্যান’ ফড়েদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মেমারিতে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, 'কৃষকদের বঞ্চিত করার জন্য কোনও দালাল, রাইসমিলের মাফিয়া, ২ নম্বর লোক থাকবে না। সমস্ত ধান কিনবে সরকার। ১০০ কুইন্টাল ধান দিলছ ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে।' এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিগত রাজ্য সরকারের নীতির কারণেই রাজ্যে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের যে নিগৃহীত হতে হয়েছে তাই নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'আলুচাষিদের উপর অত্যাচার করেছে বিগত সরকার। সারের কালোবাজারি, সীমানা বন্ধ করা, হিমঘরের উপর অত্যাচার করেছে। আলু চাষিদের জন্য সরকারি ভর্তুকি আসবে। ডিসেম্বরেই আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ আসতে চলেছে।'
জব কার্ড হোল্ডারদের ৩৪, ৫০০ টাকা
{{/usCountry}}এদিন ধানের ব্যবসায় যুক্ত ‘মিডলম্যান’ ফড়েদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মেমারিতে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, 'কৃষকদের বঞ্চিত করার জন্য কোনও দালাল, রাইসমিলের মাফিয়া, ২ নম্বর লোক থাকবে না। সমস্ত ধান কিনবে সরকার। ১০০ কুইন্টাল ধান দিলছ ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে।' এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিগত রাজ্য সরকারের নীতির কারণেই রাজ্যে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের যে নিগৃহীত হতে হয়েছে তাই নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'আলুচাষিদের উপর অত্যাচার করেছে বিগত সরকার। সারের কালোবাজারি, সীমানা বন্ধ করা, হিমঘরের উপর অত্যাচার করেছে। আলু চাষিদের জন্য সরকারি ভর্তুকি আসবে। ডিসেম্বরেই আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ আসতে চলেছে।'
জব কার্ড হোল্ডারদের ৩৪, ৫০০ টাকা
{{/usCountry}}এদিন ভিবি-জি রাম জি-তে জব কার্ড হোল্ডারদের বছরে ৩৪, ৫০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। জিরামজি প্রকল্পে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিন কাজ পাচ্ছেন জব কার্ড হোল্ডাররা। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রত্যেকে যাতে ১২৫ দিন কাজ পান নিশ্চিত করতে হবে। আমরা প্রত্যেককে বছরে ৩৪,৫০০ টাকা দেব।’ জেলার ধান চাষীদের জন্যও কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে সব ধান কিনে নেবে সরকার। ন্যূনতম ২৭০০ টাকা সহায়ক মূল্য দেওয়া হবে।’
পূর্ব বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার উপভোক্তাদের হাতে কৃষি, সেচ, বিদ্যুতে ভর্তুকি ও সূর্যঘর প্রকল্পের চেক তুলে দেন। ভাতারে ১২৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার প্রকল্প। রাজ্যের আরও তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন ৩৩ কোটি টাকা। সাব স্টেশন রাজপুর সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণপুর সহ তিনটি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চৌবেরিয়ার ইডেন খালের উপর সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনা
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Bhandar) অর্থ পাওয়া নিয়ে শুক্রবার বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্ধমান থেকে তিনি বলেন, ‘ভেরিফিকেশনে যাঁদের নাম অ্যাপ্রুভ হয়েছে, পুজোর আগে বাকিদেরকেও টাকা ট্রান্সফার করে দেব।' অন্নপূর্ণা যোজনায় সুবিধাভোগীদের তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘অন্নপূর্ণা যোজনায় এই জেলায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলা, দিদি, বোন যাঁরা আবেদন করেছিলেন, সেই সংখ্যাটা ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৮১ জন। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মঞ্জুর হয়েছে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩২ জন। কয়েকজনের আবেদন এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আবেদন খারিজ হয়েছে ১৭ হাজার ৪৫ জন। ভেরিফিকেশন পেন্ডিং ১০ হাজার ৭১৪। টোটাল আমাদের টাকা দেওয়া হয়েছে ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১। বাকি যাদের ভেরিফিকেশনে অ্যাপ্রুভ হয়েছে, তাঁদের পুজোর আগে বাকিদেরকেও টাকা ট্রান্সফার করে দেব।'
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ইতিমধ্যে পেয়েছেন। ১৫টি বিধানসভা, হিসেব করে দেখুন, গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার করে, একেকটা বিধানসভায় দিদি-বোনেরা পেয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আরও যাঁরা যোগ্য আছেন, তাঁদেরকেও আমরা দিয়ে দেব। ৫০০ টাকা দিত আগের সরকার। ৯ মাস লেগেছিল চালু করতে। আমাদের তো ৫ মাসও হয়নি, তার মধ্যে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলাকে দিয়েছি। এই জেলার ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জন, দিদি এবং বোনের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। বাকি যোগ্যরাও আগামী মাসে টাকা পেয়ে যাবেন। এই সরকারকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করুন। আমরা বয়স্কদের ভাতা আরও বাড়াব।'