মালদার কালিয়াচকে বিচারক ঘেরাও কাণ্ডে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের জালে দুই কংগ্রেস নেতা। ধৃতদের নাম শাহদাত হোসেন এবং আসিফ শেখ। এই ঘটনায় মোথাবাড়ি বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরীকেও দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জেরা করেছেন এনআইএ অফিসাররা। ধৃতদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন হলেন কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি-র মালদহ জেলা কমিটির সদস্য। এদিকে আসিফ হলেন ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি। জেরায় শাহাদাত এবং আসিফের বয়ানে অসঙ্গতি মেলে, তাই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে কংগ্রেস প্রার্থীকে জেরার জন্য ফের তলব করা হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, জেরার সময় কংগ্রেস প্রার্থীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে এনআইএ। সামেয়ের কললিস্ট এবং মেসেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে কংগ্রেস প্রার্থী অভিযোগ করেন, তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে এই মামলায় এনআইএ গোলাম রব্বানি নামে স্থানীয় এক আইএসএফ কর্মীকে গ্রেফতার করে। এর আগে এই মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন মোথাবাড়ি বিধানসভার আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদেরি। এছাড়াও সিআইডি গ্রেফতার করেছিল এআইএমআইএম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম 'মাথা' এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে। নাম জড়ায় আইএসএফ প্রার্থীরও।