এসআইআরের প্রতিবাদে চলা মতুয়া মহাসংঘের আমরণ অনশন শেষ হচ্ছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। জানালেন, সোমবার দুপুর বারোটায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনশন তোলা হবে। তবে এটিকে সমাপ্তি নয়, বরং বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন তিনি। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এসআইআরের নামে কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।

আরও পড়ুন: এসআইআরে BLA নিয়োগে নিয়োগে নতুন ছাড়, বিতর্কে কমিশন, তোপ তৃণমূলের
মতুয়ারা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ যেতে পারে। সেই আতঙ্ক থেকেই ঠাকুরবাড়িতে বড়মার ঘরের সামনে বসে শুরু হয়েছিল তাঁদের আমরণ অনশন। কয়েকজন আগে থেকেই বিশেষ কারণে অনশন তুললেও মমতাবালা ঠাকুর-সহ দশ জন এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি পৌঁছয় ঠাকুরবাড়িতে, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে। এরপরই রাতে মমতাবালা অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে অনশন তোলা হবে। কিন্তু লড়াই এখানেই শেষ নয়, এখন শুরু বৃহত্তর আন্দোলন।
এসআইআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই মতুয়া মহলে আতঙ্ক তীব্র হয়েছে। বিজেপির মধ্যেও একই ইস্যুতে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব। মতুয়া মহাসংঘের অপর সংঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এসআইআরের জেরে যদি কারও নাম বাদ যায়, প্রয়োজনে সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করা হবে। তবে সেই আশ্বাস মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করতে পারছে না। বরং দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক আরও গভীর হচ্ছে, যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়তে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। উল্লেখ্য, এর আগে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর অনুরোধে অনশন প্রত্যাহার করেছিলেন সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী। তবে অনশন প্রত্যাহার করে তিনি জানিয়েছিলেন, বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে দিল্লিতে।। মমতা বালাও বৃহত্তর আন্দোলনের কথা বলেছেন।