...
...
Next Story

Mamata Banerjee Latest Update: কোয়েলের ইস্তফা নিয়ে মুখ খুললেন মমতা, দল ছাড়তে বেঁধে দিলেন ডেডলাইন

একের পর এক বিধায়ক, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে দলের বাকি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Published on: Jul 16, 2026 06:31 PM IST
Advertisement

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কার্যত ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক বিধায়ক, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে দলের বাকি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদন, যাঁদের দল ছাড়ার ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা যেন ২১ জুলাইয়ের আগেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। কারণ ওই দিন থেকেই ‘নতুন তৃণমূল’-এর পথচলা শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে দলের বাকি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (Mamata Baneerje Social Media)
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে দলের বাকি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (Mamata Baneerje Social Media)

বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'যাদের যাদের যাওয়ার আছে বিজেপির চাপ, পুলিশ, ইডি, সিবিআই, সিআইডি, এসটিএফ, আইসি-ওসি বা মামলার চাপে, তাঁদের হাতজোড় করে বলছি— ২১ জুলাইয়ের আগে যার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে নিন। লোটাকম্বল নিয়ে চলে যান। দয়া করে আমরা যে দল তৈরি করেছি, তাকে কলুষিত করবেন না। আপনি দল ছাড়তেই পারেন, তাতে আমরা দুর্বল হব না।'

তৃণমূল নেত্রীর কথায়, ২১ জুলাই শুধুমাত্র শহিদ স্মরণের দিন নয়, দলের জন্যও একটি নতুন সূচনার দিন। তিনি বলেন, 'আগামী ২১ জুলাই নতুন করে পথচলা শুরু হবে। কে থাকলেন, কে চলে গেলেন, তাতে কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই আমাদের স্বর্ণখনি। তাঁদের নিয়েই নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলা হবে।'

শহিদ দিবস উপলক্ষে এদিন আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের গুলিকাণ্ডে নিহত শহিদদের পরিবারগুলোকেও ভয় দেখিয়ে বর্তমান শাসকদলের শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি বলেন, 'ওঁরা যেতেই পারেন। কিন্তু তাঁদের হৃদয় আমাদের সঙ্গেই রয়েছে, সেটা আমি জানি।'

বৃহস্পতিবার কোয়েল সংসদ ভবনে গিয়ে চেয়ারম্যানের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন। মাত্র দুই মাস দশ দিন আগে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এত দ্রুত তাঁর পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পদত্যাগের পরই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফলে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনাও আরও জোরদার হয়েছে।

এই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেও কোয়েলকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যদিও কোয়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তৃণমূল নেত্রী। মমতা শুধু বলেন, 'খুব ভালো শিল্পী। তাঁকে আমি সম্মান করি। বিজেপির কোনও এক নেতার সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগ করতে গিয়েছেন। সবার জানার জন্য বলি, উনি আগেই ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই যে আজ সশরীরে গিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।'

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক নেতা-সাংসদের দলত্যাগে চাপে রয়েছে তৃণমূল। সেই পরিস্থিতিতে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন নজর, শহিদ দিবসের আগে আরও কোনও নেতা বা জনপ্রতিনিধি দল ছাড়েন কি না এবং ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কীভাবে তুলে ধরা হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe