Mamata Banerjee on Baruipur Rape: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচির জন্য কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আগামী ৮ জুলাই বারুইপুর কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন আইনি পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবারই কালীঘাটে একটি মোমবাতি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরের নির্যাতিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সেই কর্মসূচিতে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তার ঠিক একদিনের মধ্যেই আরও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় জল্পনা বেড়েছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উঠে এসেছে আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ। সেই সময় গোটা রাজ্যজুড়ে যেমন প্রতিবাদ হয়েছিল, তেমনই দেশ-বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল ক্ষোভ। বিভিন্ন প্রান্তে মোমবাতি মিছিল, বিক্ষোভ এবং বিচার দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। সেই আবহে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে "উৎসবে ফিরুন" বলে আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের দাবি, তখন আন্দোলন থেকে মানুষকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
এবার অবশ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা নিজেই রাস্তায় নেমেছেন এবং বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই অবস্থান বদল নিয়েই ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, ঘটনাভেদে শাসকদলের অবস্থান বদলে যাচ্ছে। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা সব সময়ই সরব এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপের পক্ষেই দল।
জানা গিয়েছে, ৮ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে শুধু বারুইপুরের ঘটনাই নয়, নারী নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রতিক একাধিক সামাজিক ইস্যুও তুলে ধরা হতে পারে। সেই কারণেই কলকাতা পুলিশের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে আগেভাগেই হাই কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
{{/usCountry}}জানা গিয়েছে, ৮ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে শুধু বারুইপুরের ঘটনাই নয়, নারী নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রতিক একাধিক সামাজিক ইস্যুও তুলে ধরা হতে পারে। সেই কারণেই কলকাতা পুলিশের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে আগেভাগেই হাই কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
{{/usCountry}}আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন যদি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না পায় বা অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আদালত পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে। সেই প্রক্রিয়াতেই এই আবেদন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি। পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সরকার। শাসক ও বিরোধী- উভয় পক্ষই ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে।
এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে। আদালত যদি অনুমতি দেয়, তাহলে ৮ জুলাইয়ের মিছিল রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা।