মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে দুষেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন ঘটনার যাবতীয় দায় তিনি চাপিয়েছিলেন কমিশনের ঘাড়ে। সেই সময় মমতার কথায়, পুলিশ ছিল কমিশনের। তবে এবার শিলিগুড়ি থেকে কালিয়াচক কাণ্ডের মোফাক্কেরুল ধরা পড়তেই মমতা বললেন, 'আমাদের সিআইডি ধরেছে'। এর আগে কালিয়াচক কাণ্ডে রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের তরফ থেকে সওয়াল করা আইনজীবী কপিল সিব্বল তো প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন যাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মৌখিক পর্যবেক্ষণ লিখিত রায়ে না থাকে। এর একদিন যেতে না যেতেই মালদা কাণ্ডের তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়াই মমতার গলায়।

মমতা আজ বলেন, 'মালদার ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাকে কে গ্রেফতার করেছে জানেন তো? এই রাজ্যের সিআইডি। মহারাষ্ট্র থেকে আসছিল। বিজেপির কথায় দাঙ্গা ছড়ানোর ছক। এনআইএ আসার আগেই বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।' এর আগে মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারি নিয়ে আজ এডিজি উত্তরবঙ্গ কে জয়রামন বলেছিলেন, 'মালদার ঘটনায় এখনও ৩৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। আমরা মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছি। ইটাহার থানার বাসিন্দা, একজন অ্যাডভোকেট। মূলত তিনিই উস্কানি দিচ্ছিলেন। ভাইরাল ভিডিয়োও পাওয়া গিয়েছে। ওকে আমরা আজ সকালে গ্রেফতার করেছি বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে। সিআইডি-কে আমরা অনুরোধ করেছিলাম। সেই মতো শিলিগুড়ি পুলিশের সহায়তায় ওঁকে আটক করা হয়েছে। ওর সঙ্গে আকরামুল বাগানি নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। সম্ভবত ওরা বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিল। ওদের মালদায় আনা হচ্ছে।'
এদিকে মালদার কালিয়াচকে বিডিও অফিসে ৭ বিচারককে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিও গ্রেফতার হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম 'মাথা' এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে। নাম জড়ায় আইএসএফ প্রার্থীরও।