আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিএলএদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বক্তৃতা চলাকালীনই আচমকা তাঁর হাতে থাকা মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে তিনি রেগে গিয়েছিলেন। তখন মমতাকে বলতে শোনা যায়, 'মাইক কাজ করে না কেন ইন্ডোরের? এটা আপনাদের দায়িত্ব। পুলিশ কী করে? দেখে না কেন? পার্টির লোক যারা থাকেন তারাই বা কেন সাহায্য করবেন না? এটা অন্তর্ঘাত হচ্ছে না তো? প্রত্যেক দিন এই সমস্যা কেন হবে? আমি কিন্তু এবার অ্যাকশন নেব।' এদিকে আজকে বিএলএ-দের একগুচ্ছ পদক্ষেপ করতে বললেন মমতা।

আজ দলের বিএলএ-দের উদ্দেশে মমতার বার্তা, সব ভোটারের বাড়িতে ফের যেতে হবে বিএলএ-দের। এদিকে যে সব ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের ফর্ম ৬ ভরিয়ে তা ইআরওদের কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএলএ-দের ওপর। এছাড়া আনম্যাপড ভোটাররা শুনানির নোটিশ পেয়েছেন কি না, এবং তাঁদের কাছে উল্লেখিত ১১টি নথির যেকোনও একটি আছে কি না, তা দেখতে বলা হয়েছে বিএলএদের। এদিকে সেই ১১টি নথির কোনওটি যদি না থাকে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারের হয়ে স্থায়ী বাসস্থান শংসাপত্র, তফসিলি জাতি-উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র আবেদন করার জন্য বিএলএ-দের সাহায্য করতে বলা হয়েছে। এর জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে বলা হয়েছে।
এদিকে যে ব ভোটারের ক্ষেত্রে বাবা-ছেলের বয়সে যুক্তিগত অসামঞ্জস্য দেখা গিয়েছে, সেই সব ক্ষেত্রে ভোটারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে বিএলএ-দের। এদিকে মমতা অভিযোগ করেন, খসড়া তালিকাতে নাকি অনেক 'বাইরের লোকের' নাম ঢুকেছে। এদিকে ভোটের জন্য অন্য় রাজ্য থেকে যাঁরা আসছেন, নাম তুলছেন, তাঁদের উপরেও বিএলএ-দের নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। নথি নিয়ে কমিশনের কড়াকড়ি প্রসঙ্গে আজ মমতা বলেন, 'কতজন স্কুলে পড়ত? সার্টিফিকেট কতজনের আছে? আমার মা-বাবার জন্ম বাড়িতে। তাঁদেরও নেই। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ পারবেন? ফেক, ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট বানিয়েছে। একটা ডুপ্লিকেট, ফেক বানাতে এক সেকেন্ড লাগে। কিন্তু আমরা তো ডুপ্লিকেট বানাব না। বড়দিন আসছে, আমরা কেক বানাব। সেই কেক খেয়ে তোমাদের হজম করব। ১৮ বছরে ভোটাধিকার এসেছে রাজীব গান্ধীর সময়। আগে ভোটাধিকার মিলত ২১ বছরে। এ সব যদি হিসাব করেন, তাহলে মা-বাবার সার্টিফিকেট পাবেন কী করে?'