...
...
Next Story

Mamata Leg Medical Report Row: মমতার পায়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসা নিয়ে আইনি নোটিস, নিশানায় SSKM ও স্বাস্থ্য ভবন

গত কয়েকদিন ধরেই মমতার পায়ের চোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সেই আবহেই তাঁর পুরনো চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সামনে আসে। সংবাদমাধ্যমেও সেই রিপোর্ট দেখানো হয়। আর তাতেই আপত্তি তুলেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, একজন রোগীর চিকিৎসার তথ্য কী ভাবে প্রকাশ্যে এল, তার জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

Published on: Oct 5, 2026, 12:38:44 IST
Advertisement

বহু বছর আগের একটি পায়ের চোট ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট কী ভাবে প্রকাশ্যে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার এসএসকেএম হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস পাঠালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়টি।

গত কয়েকদিন ধরেই মমতার পায়ের চোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। (RAJ K RAJ /HT PHOTO)
গত কয়েকদিন ধরেই মমতার পায়ের চোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। (RAJ K RAJ /HT PHOTO)

গত কয়েকদিন ধরেই মমতার পায়ের চোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সেই আবহেই তাঁর পুরনো চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসে। সংবাদমাধ্যমেও সেই রিপোর্ট দেখানো হয়। আর তাতেই আপত্তি তুলেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, একজন রোগীর চিকিৎসার তথ্য কী ভাবে প্রকাশ্যে এল, তার জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল কী ভাবে?

টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতার জখম পায়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। মমতার প্রশ্ন, চিকিৎসার মতো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয় কী ভাবে সংবাদমাধ্যমে পৌঁছল?

রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সাধারণত সংবেদনশীল তথ্যের মধ্যে পড়ে। ফলে তা কারও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সামনে। মমতার আইনি নোটিসে এই তথ্য কী ভাবে বাইরে গেল, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

পুরনো পায়ের চোট নিয়েই ফের রাজনৈতিক তরজা

এবার সেই পুরনো ঘটনাকেই সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতার পায়ে আদৌ কোনও হাড় ভেঙেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি একটি মেডিক্যাল রিপোর্টের উল্লেখও করেছেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের ১১ মার্চের একটি রিপোর্টে পায়ে কোনও ভাঙন বা স্থানচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি শেষ হলে সিআইডি তদন্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রিপোর্ট প্রকাশ নিয়েই এবার পাল্টা আইনি লড়াই

শুভেন্দুর এই দাবির পরেই পুরনো মেডিক্যাল নথি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। আর তার মধ্যেই মমতার আইনি নোটিস পরিস্থিতিকে নতুন দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। মমতার আপত্তি মূলত রিপোর্টের চিকিৎসাগত বিষয়বস্তুর থেকেও বেশি, সেটি কী ভাবে প্রকাশ্যে এল তা নিয়ে।

অর্থাৎ প্রশ্ন এখন শুধু মমতার পায়ের চোট সত্যিই কতটা গুরুতর ছিল, তা নয়। আরও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোনও রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি হাসপাতাল বা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিতর থেকে বাইরে এল কী ভাবে।

এসএসকেএমের ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন

মমতার চিকিৎসা ঘিরে এসএসকেএম হাসপাতালের নাম অবশ্য এই প্রথম রাজনৈতিক আলোচনায় এল না। অতীতেও তাঁর চিকিৎসা নিয়ে তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কোন চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কী পরীক্ষা হয়েছিল এবং চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল কি না, সে সব জানতে আরটিআই আবেদনও করা হয়েছিল।

তবে এবার বিষয়টি আরও সরাসরি আইনি পথে গড়িয়েছে। মমতার পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিসের পর এসএসকেএম এবং স্বাস্থ্য ভবন কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

পুরনো বিতর্কে নতুন মাত্রা

এক দিকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২১ সালের পায়ের চোট নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অন্য দিকে মমতার বক্তব্য, তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল কী ভাবে, তার জবাব চাই। ফলে একই মেডিক্যাল নথিকে ঘিরে দুই সম্পূর্ণ আলাদা প্রশ্ন সামনে এসেছে।

একটি পুরনো নির্বাচনী ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক এবার গড়িয়েছে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার এবং সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বের প্রশ্নেও। আইনি নোটিসের জবাবে এসএসকেএম ও স্বাস্থ্য ভবন কী অবস্থান নেয়, তার উপরই পরবর্তী বিতর্কের অনেকটাই নির্ভর করছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks