...
...
Next Story

Sankar Passes Away: ‘শংকর’ হীন চৌরঙ্গী, 'কত অজানারে' পথে পাড়ি সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের

‘শংকর’ হীন হয়ে গেল চৌরঙ্গী। 'কত অজানারে' ছিল শংকরের প্রথম বই। ১৯৫৫ সালে সেই প্রকাশিত হওয়ার পরই পাঠকদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। যে জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল ‘চৌরঙ্গী’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জনঅরণ্য’, ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’-র মতো লেখনীর হাত ধরে।

Published on: Feb 20, 2026, 14:06:22 IST
Advertisement

‘শংকর’ হীন হয়ে গেল চৌরঙ্গী। যে মানুষটার হাত ধরে চৌরঙ্গী দিয়ে হেঁটে এসেছে বাঙালি, প্রয়াত হলেন সেই বিশিষ্ট সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)। সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে ৯২ বছরে প্রয়াত হয়েছেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক। গত বছর শেষের দিকে পড়ে গিয়েছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালেও ভরতি ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে ওঠার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ভরতি করতে হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু এবার তাঁর হাসপাতাল থেকে ফেরা হল না বাড়িতে। পাড়ি দিলেন 'কত অজানারে' পথে।

শংকর ও বাঙালির আবেগ

‘শংকর’ হীন হয়ে গেল চৌরঙ্গী।
‘শংকর’ হীন হয়ে গেল চৌরঙ্গী।

সেই 'কত অজানারে' ছিল শংকরের প্রথম বই। ১৯৫৫ সালে সেই প্রকাশিত হওয়ার পরই পাঠকদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। যে জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল ‘চৌরঙ্গী’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জনঅরণ্য’, ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’-র মতো লেখনীর হাত ধরে।

তাঁর লেখনী এতটাই মানুষকে বইয়ের মধ্যে টেনে আনত যে ‘মান-সম্মান’ পড়ার পরে এক যুবতীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘পড়ার পরে মনে হচ্ছিল যে বইটা জানালা দিয়েই ছুড়ে ফেলে দিই। মানে বইটা খারাপ নয়। কিন্তু চরিত্রগুলো এমন ছিল যে মনে হচ্ছিল সামনে পেলে (চরিত্রগুলোকে) মেরে দেব।’

'সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি', শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের (শংকর) প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। চৌরঙ্গী থেকে কত অজানারে, সীমাবদ্ধ থেকে জনঅরণ্য - তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে।'

আর শংকর শুধুমাত্র একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি সমাজের একজন পর্যবেক্ষক ছিলেন। তাঁর লেখায় কলকাতা একটি জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছিল। আজও বাঙালির ড্রয়িংরুমে যত্ন করে রাখা আছে শংকরের বই। তাঁর বই মানেই একরাশ নস্টালজিয়া এবং জীবনের পরম সত্যের মুখোমুখি হওয়া। তাঁর সাহিত্য যেন সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল ​একটি দর্শনে - ‘মানুষের জীবনটা আসলে একটা হোটেল, যেখানে প্রতিদিন কত মানুষ আসে আর যায়—কেউ স্মৃতি ফেলে যায়, কেউ কিছুই না।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe