...
...
Next Story

Manoranjan Byapari: 'বেঁচে গেছি', পুরনো সিদ্ধান্তে মমতাকে 'ধন্যবাদ' জানিয়ে কটাক্ষ মনোরঞ্জন ব্যাপারীর

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হলেও দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। বিশেষ করে বলাগড়ের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তিনি বারবার সামাজিক মাধ্যমে সরব হন। এর জেরে দলের অন্দরে তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

Published on: Jun 29, 2026, 08:10:15 IST
Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ফের সরব হলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন তিনি। সেই পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

'সঠিক সময়ে তাঁকে দলীয় কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান মনোরঞ্জন ব্যাপারী
'সঠিক সময়ে তাঁকে দলীয় কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান মনোরঞ্জন ব্যাপারী

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হলেও দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। বিশেষ করে বলাগড়ের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তিনি বারবার সামাজিক মাধ্যমে সরব হন। এর জেরে দলের অন্দরে তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দলীয় সাংগঠনিক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থীও করা হয়নি।

এবার তৃণমূলের অন্দরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রচনা সম্প্রতি অভিযোগ করেন, তাঁকে শুধুমাত্র একজন সেলিব্রিটি হিসেবে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান মনোরঞ্জন ব্যাপারী।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। বরং 'সঠিক সময়ে তাঁকে দলীয় কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি। মনোরঞ্জনের কথায়, যদি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে তিনি প্রচার করতেন, তাহলে আজ তাঁর পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আক্ষেপ থেকে যেত। কিন্তু তিনি সেই প্রচারে অংশ নেননি বলেই এখন তাঁর কোনও আফসোস নেই। পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি। কারণ, মমতার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি তখন দলীয় কার্যকলাপ থেকে দূরে ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি লেখেন, 'খুব বাঁচা বেঁচে গিয়েছি সেই মনোকষ্ট থেকে।'

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে আসছিলেন। এবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি যে ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মনোরঞ্জন ব্যাপারী প্রথম জীবনে রিকশাচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরবর্তীতে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ এবং বলাগড় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া। তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য ক্রমশ প্রকাশ্যে আসে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe