...
...
Next Story

Maoist Couple Surrender: মাথার দাম ৭ লক্ষ, কিষেণজির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা! ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী দম্পতির আত্মসমর্পণ লালবাজারে

Maoist Couple Surrender: আত্মসমর্পণকারী দু’জনেই মূলতঃ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এবং মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে।

Published on: Oct 23, 2026, 14:25:59 IST
Advertisement

Maoist Couple Surrender: রাজ্যে মাওবাদী দমন ও তাদের মূলস্রোতে ফেরানোর উদ্যোগে ফের বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। দীর্ঘদিনের ঝাড়খণ্ডে আত্মগোপন ও সশস্ত্র পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল এবং মালতী। সারান্ডার জঙ্গলে বিভিন্ন মাওবাদী কার্যকলাপে নাম জড়িয়েছিল তাঁদের। শুক্রবার সকালে কলকাতার লালবাজারে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের কাছে নিজেদের একে-৪৭ (AK-47) এবং ইনসাস (INSAS) রাইফেল জমাও দেন। এই ঘটনায় রাজ্য তথা দেশের নিরাপত্তা মহলে বড় স্বস্তি মিলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লালবাজারে মাওবাদী দম্পতির আত্মসমর্পণ (সৌজন্যে এক্স )
লালবাজারে মাওবাদী দম্পতির আত্মসমর্পণ (সৌজন্যে এক্স )

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দু’জনেই মূলতঃ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এবং মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। পরবর্তী সময়ে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তাঁরা। মঙ্গল প্রথমে দলমা এলাকায় এবং পরে সারান্ডায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মালতীও ঝাড়গ্রাম থেকে চলে যান সারান্ডায়। পুলিশ জানাচ্ছে, সারান্ডায় তাঁদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালে ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন মাওবাদীরা। তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৩ জন ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় গ্রেফতার হয়েছেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন তিন জন। কয়েক মাস আগে কলকাতায় আত্মসমর্পণ করেন পুষ্পা, গ্রেফতার হন বেলা। এ বার মঙ্গল এবং মালতীও আত্মসমর্পণ করলেন কলকাতা পুলিশের কাছে।

​এই হাই-প্রোফাইল আত্মসমর্পণের বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। অজয় নন্দ জানান, ২০১১-১২ সালের পর ঝাড়খণ্ডে চলে গিয়েছিলেন মঙ্গল। তার আগে ২০১০ সালে মাওবাদীদের সংগঠনে যোগ দেন তিনি। ওই সময়ে জনসাধারণের কমিটি সক্রিয় ছিল শালবনিতে। আত্মসমর্পণকারী এই মাওবাদী নেতা কিষেণজির ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, 'এই দুই মাওবাদী নেতা-নেত্রীর মাথার মোট দাম ছিল সাত লক্ষ টাকা। এর মধ্যে মালতীর মাথার দাম দুই লক্ষ এবং মঙ্গলের মাথার দাম পাঁচ লক্ষ টাকা রেখেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ।' পুলিশ জানাচ্ছে, মূলত সারান্ডা এলাকাতেই সক্রিয় ছিলেন দু’জনে। এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে যা খবর, ঝাড়খণ্ডে মঙ্গলের বিরুদ্ধে ৬-৭টি মামলা চলছে। এদিন একটি একে-৪৭ এবং একটি ইনসাস রাইফেল সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত জুন মাসে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বর্ষীয়ান মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। তারও আগে মে মাসে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। একের পর এক এই আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারির ফলে জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাওবাদী সংগঠন কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks