রাজ্য পুলিশের বড়সড় সাফল্য। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাবাহিনীর নজরে থাকা সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে মনোজকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি ওই এলাকায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, এই গ্রেফতারের খবর সামনে আসে।

আকাশকে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হয়েছে। গত কয়েক দিন আগেও তাঁকে ধরতে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, দু’দিনের চিরুনি তল্লাশি সত্ত্বেও আকাশের সন্ধান মেলেনি। সেই সময় রোলাহাটু পাহাড় থেকে দু’টি ইনসাস রাইফেল, ১০৩ রাউন্ড গুলি এবং ছ’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছিল। অস্ত্রগুলির সঙ্গে অতীতের কোনও নাশকতার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
এর মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। জঙ্গলেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকা আকাশ সম্প্রতি নিজের সামরিক দস্তা ভেঙে বেরিয়ে আসেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খারাপ স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময় তাঁর মাথার উপর এক কোটি টাকার পুরস্কার ছিল বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আকাশের এই সিদ্ধান্তের পিছনে তাঁর সংগঠনের দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন সহযোগী আত্মসমর্পণ করেছেন এবং একাধিক সদস্য গ্রেফতারও হয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আকাশের গতিবিধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পুরনো সংগঠন সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল পুলিশ। ফলে সময়ের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা বলয়ও অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
{{/usCountry}}আকাশের এই সিদ্ধান্তের পিছনে তাঁর সংগঠনের দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন সহযোগী আত্মসমর্পণ করেছেন এবং একাধিক সদস্য গ্রেফতারও হয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আকাশের গতিবিধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পুরনো সংগঠন সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল পুলিশ। ফলে সময়ের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা বলয়ও অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
{{/usCountry}}আকাশের মাওবাদী জীবনের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৮০-র দশকে কলেজজীবন থেকেই তিনি বাম উগ্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সিপিআই (মাওবাদী)-র সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। কিষানজির মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী সংগঠনের নেতৃত্বে উঠে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গল এলাকায় থেকে সংগঠন পরিচালনা করেছেন তিনি।
এই কারণেই পটাশপুর থেকে তাঁর গ্রেফতারিকে তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন যিনি জঙ্গল, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছেন, এবার শহরাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় এসে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন তিনি। গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে কী কী তথ্য পাওয়া যায়, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে মাওবাদী সংগঠনের অবশিষ্ট যোগাযোগ, অর্থের উৎস, পুরনো সহযোগী এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসা বা আত্মসমর্পণ করা সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর আকাশের এই গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গে সেই সশস্ত্র অধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য মোড়। তবে তাঁর গ্রেফতারির পর সংগঠনের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক কতটা সক্রিয়, তা জানতে তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।