মাসের পর মাস তল্লাশি চলছে। ড্রোন উড়ছে। জঙ্গলে চলছে চিরুনি অভিযান। কিন্তু হদিস নেই মাও নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের। অমিত শাহের নির্দেশের পর মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর। সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন। কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন। আবার যৌথ বাহিনীর অভিযানে কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও আকাশ এখনও অধরা।

শুধু তাই নয়। মাত্র কয়েক জন সঙ্গীকে নিয়ে সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর এখন সেদিকেই। ঘটনার সূত্র জুলাই মাসে। ঝাড়খণ্ডের দুর্গম সারান্ডা জঙ্গল। দীর্ঘ দিন ধরেই এটি মাওবাদীদের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ে ঘেরা ওই এলাকা থেকে আকাশ-সহ ১০ জন গেরিলা চান্ডিল-গামহারিয়া রেঞ্জ হয়ে দলমার দিকে এগিয়ে বাংলার দিকে আসার চেষ্টা করেছিল বলে সূত্রের দাবি।
এর পরেই তৎপর হয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। সম্ভাব্য যাতায়াতের পথগুলিতে বাড়ানো হয় নজরদারি। একের পর এক অস্থায়ী শিবির তৈরি করে বাহিনী। জঙ্গল এবং পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি।
এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আহত চার মাও গেরিলা। তাঁদের জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করে পুলিশ। জানা যায়, অধরা মাও নেতাদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে কিছু সূত্র মিলেছে। উঠে আসে লিঙ্কম্যানদের নাম। মিলেছে রসদ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার তথ্যও।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। সন্দেহভাজন লিঙ্কম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আকাশের সম্ভাব্য অবস্থান জানতে ড্রোন উড়ানো হয়। একাধিক গ্রাম ঘিরে চালানো হয় কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের বিভিন্ন সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি চালানো হয়।
{{/usCountry}}সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। সন্দেহভাজন লিঙ্কম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আকাশের সম্ভাব্য অবস্থান জানতে ড্রোন উড়ানো হয়। একাধিক গ্রাম ঘিরে চালানো হয় কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের বিভিন্ন সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি চালানো হয়।
{{/usCountry}}কিন্তু এক মাস কেটে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মেলেনি। আকাশ-সহ ছয় মাও নেতা-নেত্রীর কোনও নিশ্চিত সন্ধান এখনও নেই বলে সূত্রের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে ফের পুরনো কৌশলের আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এখন বহু বছর আগের ওয়ান্টেড মাওবাদীদের ছবি-সহ পোস্টার নতুন করে বিভিন্ন গ্রামে লাগাচ্ছে। তাঁদের সম্পর্কে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা মহলের একাংশের নজরে এসেছে আরও একটি বিষয়। জঙ্গলমহলে মাওবাদী আন্দোলনের পুরনো ইতিহাস। এক সময় কিষেনজির নেতৃত্বে এই অঞ্চল কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই পর্বেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন আকাশ বলে নিরাপত্তা সূত্রে দাবি।
তাই আকাশের বর্তমান গতিবিধি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা রয়েছে। তিনি কি আত্মগোপন করে রয়েছেন? নাকি ছোট দলকে নিয়ে ফের সংগঠন গড়ার চেষ্টা করছেন? নতুন কোনও বড় হামলার প্রস্তুতি চলছে কি না, সেই আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার যৌথ বাহিনী।