হাওড়ার অঙ্কুরহাটির মহিয়াড়ি আমতলা এলাকায় একটি আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হঠাৎ করে আবাসনের একটি অংশে আগুন লেগে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আগুন লাগার সময় আবাসনের ভিতরে পাঁচ থেকে সাতজন আটকে পড়েছিলেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। আগুন নেভানোর পাশাপাশি আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধারে জোরদার তৎপরতা শুরু করেন দমকলকর্মীরা। ঘটনায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাস্থলে প্রথমে পাঁচটি দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছয়। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় উদ্ধারকাজ যথেষ্ট কঠিন হয়ে ওঠে। ঘন ধোঁয়া এবং প্রবল উত্তাপের মধ্যেই আবাসনের ভিতরে ঢুকে আটকে পড়া বাসিন্দাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালান দমকলকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, আগুনের তাপে আবাসনের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন। কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
আগুনের মধ্যে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই নিজেরা বেরিয়ে আসতে পারেননি। পরিস্থিতি বুঝে দমকলকর্মীরা একে একে তাঁদের উদ্ধার করে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামিয়ে আনেন। গুরুতর আহতদের অনেককেই কার্যত কোলেপাঁজা করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হয়। এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের উৎস কোথায় এবং কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবাসনের কোন অংশে প্রথম আগুন লাগে, আগুন লাগার সময় সেখানে কোনও বৈদ্যুতিক গোলযোগ হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিপত্তি—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকলের আরও ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হতে পারে বলেও খবর।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে আবাসনের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। আশপাশের এলাকার মানুষজনও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}অগ্নিকাণ্ডের জেরে আবাসনের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। আশপাশের এলাকার মানুষজনও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনার পর ফের একবার আবাসিক ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি শহর কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। কিছুদিন আগেই কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে তারাপীঠের একটি হোটেলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
যদিও সেই ঘটনাগুলি মূলত হোটেলকেন্দ্রিক ছিল, এবার হাওড়ায় একটি আবাসনে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বহুতল বা আবাসনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, জরুরি অবস্থায় বেরোনোর রাস্তা কতটা নিরাপদ এবং ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা রয়েছে কি না—তা নিয়ে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এসেছে।
এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য আগুন দ্রুত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আহত ও আটকে পড়া প্রত্যেক বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা। দমকলের তরফে উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।