কর্মক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য দময়ন্তী সেন-সহ রাজ্যের ছয় আইপিএস আধিকারিককে সম্মান জানাতে চলেছে রাজ্য সরকার। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে ‘মুখ্যমন্ত্রী মেডেল সম্মান’ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই আধিকারিকদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দায়িত্বে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া পুলিশ আধিকারিকদের কাজের স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ।

এই বছরের সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন অজয় কুমার, নীরজ কুমার সিং, দময়ন্তী সেন, জয়রামন, প্রণব কুমার এবং কুনাল আগরওয়াল। বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার জন্য তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তালিকায় দময়ন্তী সেনের নাম বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে চলন্ত গাড়িতে সুজেট জর্ডনের ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। সেই তদন্তের সময় তাঁর পেশাদার দক্ষতা এবং নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বড় মামলার তদন্তে তাঁকে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দময়ন্তী সেনকে ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। নারী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত নতুন কমিটিতেও তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এবার সেই আধিকারিককেই স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মান নিতে দেখা যাবে।
দময়ন্তী একা নন, সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় থাকা আরও কয়েকজন আধিকারিকের কর্মজীবনও নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। জয়রামনকে দক্ষ ও সৎ পুলিশ আধিকারিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার মুখ্যমন্ত্রী মেডেল দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
{{/usCountry}}দময়ন্তী একা নন, সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় থাকা আরও কয়েকজন আধিকারিকের কর্মজীবনও নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। জয়রামনকে দক্ষ ও সৎ পুলিশ আধিকারিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার মুখ্যমন্ত্রী মেডেল দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, অজয় কুমারের নামও উল্লেখযোগ্য। বাম আমলে আলোচিত রিজওয়ানুর রহমান মামলার তদন্তের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করা আধিকারিকদের এবার কাজের ভিত্তিতে স্বীকৃতি দেওয়ার বার্তাই এই সম্মানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইছে সরকার।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব পুলিশ আধিকারিক অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে একসঙ্গে সম্মান জানানোর বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে মূলত কর্মদক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের বিতর্কের পরিবর্তে কর্মক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতেই আধিকারিকদের বেছে নেওয়া হয়েছে—এমন বার্তাই দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাই শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিই নয়, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের দক্ষ আধিকারিকদের সম্মান জানানোও বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। দময়ন্তী সেন-সহ ছয় আইপিএসের হাতে মুখ্যমন্ত্রী মেডেল তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের কাজে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছে সরকার।