Mahalaya Uma Agamani Event: তৃণমূল কংগ্রেসকে পর্যুদস্ত করে এই প্রথমবার বাংলা দখল করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলায় এই প্রথমবার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। স্বাভাবিকভাবেই এ বছরের পুজো ঘিরে আগ্রহের পাশাপাশি নানা মহলে কিছুটা সংশয়ও তৈরি হয়েছে। এই আবহে পরিবর্তনের বাংলায় এবার বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) আনছে নয়া চমক। জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথমবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) নজিরবিহীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধুই তাই নয়, অনুষ্ঠানের আনন্দ দ্বিগুণ করতে অনুমান করা হচ্ছে উপস্থিত থাকতে পারেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
ইডেনে আয়োজিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নবান্নের তরফে জানা গিয়েছে, এবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আসলে বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই হবে এই মেগা শোয়ের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। এমনকী তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সব কিছু যদি পরিকল্পনামাফিক চলে তাহলে আগামী ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই মেগা অনুষ্ঠান।
কী থাকতে পারে ইডেনের অনুষ্ঠানে?
অনুষ্ঠানের কর্মসূচি এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনী, বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিবেশন করা হবে। আর এই অনুষ্ঠানে কলকাতার শিল্পীদের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিল্পী ও ঢাকিকে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হতে পারে। এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন ডিজিটাল ও সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে, যাতে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
নজরে অসমের রেকর্ড?
ইডেনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় অসমের মেগা বিহু উৎসবের মডেলও আলোচনায় রয়েছে বলে খবর। ২০২৩ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে অসম সরকার একটি বিশাল বিহু নৃত্য ও ঢোলবাদনের আয়োজন করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিল্পী একই সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১১,৩০৪ জন নৃত্যশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী সমবেত বিহু পরিবেশনায় যোগ দেন। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) চূড়ান্ত নথিতে বৃহত্তম বিহু নৃত্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১১,২৯৮ বলে উল্লেখ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদক একসঙ্গে পরিবেশন করে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন।
{{/usCountry}}ইডেনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় অসমের মেগা বিহু উৎসবের মডেলও আলোচনায় রয়েছে বলে খবর। ২০২৩ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে অসম সরকার একটি বিশাল বিহু নৃত্য ও ঢোলবাদনের আয়োজন করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিল্পী একই সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১১,৩০৪ জন নৃত্যশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী সমবেত বিহু পরিবেশনায় যোগ দেন। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) চূড়ান্ত নথিতে বৃহত্তম বিহু নৃত্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১১,২৯৮ বলে উল্লেখ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদক একসঙ্গে পরিবেশন করে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন।
{{/usCountry}}প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে অসম সরকারের হাতে রেকর্ডের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। অসমের সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেই অনুষ্ঠান বড় সাফল্য পেয়েছিল। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলার অনুষ্ঠানটির ব্যাপ্তিও এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে, যা অসমের আয়োজনকে ছাপিয়ে যেতে পারে। তবে ইডেনের অনুষ্ঠানে গিনেজ রেকর্ড গড়ার আনুষ্ঠানিক চেষ্টা হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও সরকারের তরফে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
গ্লোবাল পুজো ডেস্টিনেশন করার ভাবনা
কলকাতার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কো (UNESCO)-র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই সরকারের পরিকল্পনা, সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পুজোর সময় কলকাতাকে প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা। নবান্নের পরিকল্পনা, মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যে পুজোর আবহকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা হতে চলেছে। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিকেই তাই বেছে নেওয়া হয়েছে। মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠান সফল হলে পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নজর কলকাতার দিকে ঘোরানো সম্ভব হবে। এর ফলে হোটেল, বিমান পরিষেবা, রেল, পরিবহণ, খাদ্য এবং খুচরো ব্যবসায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হতে পারে।
তবে ইডেনে শেষ পর্যন্ত কতজন শিল্পী অংশ নেবেন, অনুষ্ঠানের মূল থিম কী হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে নবান্নের প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট, রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোকে কোনও ভাবেই ম্লান হতে দিতে চাইছে না শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বরং মহালয়া থেকেই এমন এক উৎসবের সূচনা করতে চাইছে, যার দিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা দেশ—সম্ভব হলে বিশ্বও।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কলকাতা ও শহরতলির বেশ কয়েকটি বড় পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। আর এই প্রশ্নের মাঝে মহালয়ার দিন বিজেপির এই অনুষ্ঠান সূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এক বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। তবে যেহেতু কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স শুধু দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ নয় বরং আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিত একটি জায়গা তাই অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।