ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ভারত সফর ঘিরে বিতর্কে নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে এবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেই এই আইনি পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মেসি-কাণ্ডে তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার অরূপ বিশ্বাসকে তলব করেছিল পুলিশ। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিবারই তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন মন্ত্রী। মামলার শুনানিতে আদালত তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও তদন্তে সহযোগিতার ওপর জোর দেয়।
সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, আপাতত অরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে সেই সঙ্গে একাধিক শর্তও আরোপ করা হয়। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না এবং পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে। পাশাপাশি বিচারপতি মেসি সফরের সময় নিরাপত্তা ও প্রোটোকল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে তীব্র ভর্ৎসনাও করেছিলেন।
তবে আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচের পরও তদন্তে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, ১৫ জুন তদন্তকারী সংস্থার ডাকা হাজিরাও তিনি এড়িয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ শতদ্রু দত্ত আগেই জানিয়েছিলেন, সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করবেন। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতদ্রু দত্তের আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জমা দেন। আবেদনকারীর দাবি, তদন্তের স্বার্থে অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া সুরক্ষা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, রক্ষাকবচ পাওয়ার পরও তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}মঙ্গলবার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতদ্রু দত্তের আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জমা দেন। আবেদনকারীর দাবি, তদন্তের স্বার্থে অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া সুরক্ষা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, রক্ষাকবচ পাওয়ার পরও তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে কোথায় রয়েছেন? কেন তিনি বারবার তদন্তকারীদের তলব এড়িয়ে যাচ্ছেন? আদালতের শর্ত মেনে তদন্তে সহযোগিতা না করলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে পারে? সেই উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। আগামী সপ্তাহে ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির দিকে এখন নজর সকলের। আদালত কী অবস্থান নেয় এবং তদন্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে।