দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ তদন্তে উঠে এল যেন আরও ভয়াবহ তথ্য, চাষের কাজে ব্যবহৃত এনপিকে সারই নাকি জঙ্গিদের হাতে হয়ে উঠছে শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরির উপাদান। নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মিশ্রণে তৈরি এই সার ফরিদাবাদের তিন ডিলারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে কিনেছিল জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের হাতে সেই তথ্য পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

আরও পড়ুন: জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় ২ জঙ্গিকে খতম করল সেনা, ফের কিছুর ষড়যন্ত্র পাকের?
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন অপব্যবহার রুখতে সার কেনার ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা আনা হচ্ছে। আধার নম্বর দেওয়া তো থাকবেই, সঙ্গে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বায়োমেট্রিক যাচাই আঙুলের ছাপ মিলিয়েই মিলবে সার। দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ম থাকলেও তা কার্যকর হয়নি পুরোপুরি। এবার আর ঢিলেমি নয়, কড়া প্রয়োগই একমাত্র লক্ষ্য। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল জানান, আগে সারের কালোবাজারি বন্ধ করতেই এমন নিয়ম চালু হয়েছিল। কিন্তু এখন তো বিপদের ধরনই বদলে গেছে, এনপিকে দিয়ে বিস্ফোরক তৈরি হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়েই নির্দেশ আরও কঠোর করা হয়েছে। জেলা থেকে জেলা প্রতিটি জায়গায় কতজন লাইসেন্সধারী ডিলার সার বিক্রি করছেন, কোন গুদামে কত মজুত আছে সবই কৃষি দফতরের নথিতে রয়েছে। এবার নজরদারি হবে আরও নিবিড়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কেউ সার বিক্রি করতে পারবে না। ক্রেতাদের আধার নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে ডিলারদের। বায়োমেট্রিক নেওয়া হবে বাধ্যতামূলকভাবে। কত পরিমাণ সার বিক্রি হল, তার সঠিক রসিদও চাষিকে দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয়, যদি কেউ অস্বাভাবিকভাবে বেশি এনপিকে কিনে, সঙ্গে সঙ্গে সেটি ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ বলে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
{{/usCountry}}নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কেউ সার বিক্রি করতে পারবে না। ক্রেতাদের আধার নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে ডিলারদের। বায়োমেট্রিক নেওয়া হবে বাধ্যতামূলকভাবে। কত পরিমাণ সার বিক্রি হল, তার সঠিক রসিদও চাষিকে দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয়, যদি কেউ অস্বাভাবিকভাবে বেশি এনপিকে কিনে, সঙ্গে সঙ্গে সেটি ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ বলে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
{{/usCountry}}গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফরিদাবাদের ঘটনায় জঙ্গিরা চাষি পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে ধাপে ধাপে এনপিকে সংগ্রহ করেছিল, যাতে কারও সন্দেহ না জাগে। পরে সেই সারই অন্যান্য রাসায়নিকের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয় বিস্ফোরক। এতদিন পর্যন্ত মরসুমি সারের কালোবাজারিই ছিল কৃষি দফতরতরের প্রধান সমস্যা। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে জঙ্গি-অপব্যবহারের আতঙ্ক। ফলে নজরদারি ও নথিভুক্তি নিয়ে প্রশাসনের মাথাব্যথা আরও বেড়েছে।