Agnimitra Paul: 'রাস্তাটা কিন্তু সংসার পাতার জায়গা নয়।' রবিবার ল্যান্সডাউন বাজার (Lansdowne Market) পরিদর্শনে গিয়েই ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন হতেই রাস্তা ও ফুটপাথের জবরদখল হঠাতে চলছে অভিযান। দফায় দফায় বাজারগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিটে ব্যবসায়ীদের ধমক দিতেও দেখা গেছে মন্ত্রীকে।রবিবাসরীয়র সকালে ল্যান্সডাউন এলাকায় বাজার পরিদর্শনে গিয়ে সেইরকমই অ্যাকশন মোডে দেখা গেল অগ্নিমিত্রা পালকে। সেখানে ফুটপাথ তো বটেই, রাস্তার পাশের জায়গা দখলে চলে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের, যা দেখেই মেজাজ হারান মন্ত্রী। দুইদিনের ডেডলাইনের মধ্যে রাস্তা খালি করার নির্দেশও দেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে নেতারা টাকা খেয়ে ফুটপাতের উপর দোকানপাট বসিয়েছে। এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের শাসক দলের। শহরের ফুটপাতে হাঁটার ঠিক মতো জায়গা নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। এবার ফুটপাতের চেহারা ফেরাতে এবং শহরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ ল্যান্ডডাউন এলাকার বাজারে গিয়েই ফুটপাথে বসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁরা কতক্ষণ বাজারে বসেন জানতে চান তিনি। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর-প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, ভবানীপুর থানা ও পুরসভার আধিকারিকরাও। এরমধ্যেই রাস্তায় উপর বিস্তৃত একটি ফলের দোকানে নজরে পড়ে মন্ত্রীর। ফুটপাথ-রাস্তা জুড়ে বিছিয়ে থাকা দোকানের মালিককে এলাকার জবরদখল নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তাঁর কথায়, 'আপনি এতবড় জায়গাজুড়ে ফলের ক্রেট সাজিয়ে রাখলে, মানুষ হাঁটবে কোথা থেকে?'
পুর-প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে গোটা বাজার পরিদর্শন করে তিনি। যেসব দোকানগুলি হাঁটা-চলা, যাতায়াতের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দ্রুত সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। পরপর মাছ-মাংস-ফলের দোকানে ঢুকে সকলকে জায়গা খালি করতে ২ দিনের ডেডলাইন বেঁধে দেন মন্ত্রী। এরপর বাজারে একটি সবজির দোকানে ঢুকতেই রীতিমতো 'অগ্নিশর্মা' অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে গিয়েই তিনি দেখেন, বিরাট জায়গা নিয়ে সবজির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন এক ব্যবসায়ী। রবিবারের বাজারে বিক্রি-বাটাও হচ্ছে। ঠিক সেই সময় মন্ত্রী সেখানে পৌঁছতেই ভ্যাবাচাকা খেয়ে যান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী বিপুল পসরা দেখে মন্ত্রী বলেন, 'শুধু দোকান কেন, খাট-বিছানা নিয়ে চলে আসুন। রাস্তাটা কিন্তু সংসার পাতার জায়গা নয়। সংসার পাততে হলে দোকান কিনে পাতুন।' এরপরই পুর-প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডেকে দোকান দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীর উদ্দেশে ক্ষোভপ্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন করেন, 'কোনও তৃণমূল কাউন্সিলরকে টাকা খাইয়ে জায়গা দখল করেছেন? নাম বলুন, কার নির্দেশে সরকারের জায়গা দখল করে রেখেছেন?' জানা গিয়েছে, এদিন ল্যান্সডাউন মার্কেটের সুপারভাইজারকেও ধমক দেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শনিবার ধর্মতলার ফুটপাত দখল নিয়ে বলেছেন সাংসদ শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ব্যাপক হারে না হলেও সেখানেও যে হকার উচ্ছেদ হবে তার একটা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, শনিবার ধর্মতলার ফুটপাত দখল নিয়ে বলেছেন সাংসদ শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ব্যাপক হারে না হলেও সেখানেও যে হকার উচ্ছেদ হবে তার একটা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
{{/usCountry}}